হরমুজ প্রণালী (Hormuz) -পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যা গত পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববাসীর কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিন থেকে, কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে, তেহরান এই প্রণালীতে চলাচলকারী ‘শত্রুপক্ষের’ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানো শুরু করে। এর ফলে কার্যত সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়।
স্থায়ী শান্তির শর্তাবলি নিয়ে দু’সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। হরমুজ বন্ধ রাখার জন্য গোটা হরমুজ প্রণালী জুড়ে মাইন পেতে রেখেছিল ইরান। আর সেই মাইনই এখন তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স জানিয়েছে, কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছিল, এখন আর তা চিহ্নিত করতে পারছে না তেহরান। সেই কারণেই আমেরিকার শর্ত মেনে সব জাহাজের জন্য হরমুজ খুলে দিতেও পারছে না। শনিবার ইসলামাবাদের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠতে পারে।
আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণের পরই হরমুজ (Hormuz) প্রণালীর দখল নিয়েছিল তেহরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে নির্দিষ্ট কিছু দেশকে ছাড় দেয় ইরান। তবে বলা হয়, আমেরিকা বা ইজরায়েলের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলেও দাবি করে ইরানের বাহিনী। ফলে হরমুজে মাইন পেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। কিন্তু এখন এই মাইনই ইরানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স আরও জানিয়েছে, হরমুজে মাইন পাতার জন্য ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করেছিল ইরান। একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছিল। সেখান দিয়েই ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে আপাতত পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে। ইরানের গার্ড বাহিনী হরমুজের নিরাপদ অংশের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
যদিও আমেরিকার দাবি, হরমুজে মাইন পাতার জন্য বিশেষ কৌশল বা প্রশিক্ষণ দরকার, যা ইরানের নেই। এলোমেলো ভাবে মাইন পাতা হয়েছে হরমুজে। সেই প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদি রেকর্ড করা হয়েও থাকে, পরবর্তী সময়ে মাইনগুলি চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন। এমনও হতে পারে এমনভাবে মাইন পাতা হয়েছিল যে, জলের ধাক্কায় তা পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যেতে অন্যত্র চলে যেতে পারে। হয়তো সেই বিষয়গুলির দিকে নজর দেয়নি ইরান। তাই এই সমস্যা।
পাকিস্তানে শনিবার দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৭০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেও গিয়েছেন। আমেরিকার তরফে বৈঠকে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।












