---Advertisement---
lifezone nursing home

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ‘Cockroach Janta Party’র— মিম, প্রতিবাদ নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা?

May 19, 2026 9:34 PM
Cockroach Janta Party
---Advertisement---

ভারতের রাজনৈতিক ও সোশ্যাল মিডিয়া জগতে আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত নাম— ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP)। নাম শুনে প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি নিছক মিম বা ট্রোল পেজ। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই অনলাইন রাজনৈতিক ব্যঙ্গ-আন্দোলনে লাখের কাছাকাছি সদস্য, হাজার হাজার ফলোয়ার, বিরোধী নেতাদের সমর্থন এবং জাতীয় স্তরে বিতর্ক তৈরি করেছে।

এখন প্রশ্ন,তাহলে কী এই ককরোচ জনতা পার্টি? কোথা থেকে শুরু? কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল? কারা এর পিছনে? আদৌ কি এটি শুধুই মজা, নাকি এর ভিতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও বার্তা নাকি নেপাল এর মতো ভারতে জেন -জি দের নতুন অভ্যুত্থান?

কীভাবে শুরু ‘Cockroach Janta Party’?

ঘটনার সূত্রপাত ১৫ মে, সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানির সময়। প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত একটি পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশে এমন অনেক যুবক রয়েছে যারা চাকরি পায় না, এবং তিনি তুলনা টানেন cockroaches বা আরশোলার সঙ্গে। এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরের দিন অবশ্য CJI স্পষ্ট করেন, তিনি সাধারণ বেকার যুবকদের উদ্দেশে নয়, ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দেশের যুবসমাজকে “Developed India”-র স্তম্ভ বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু ততক্ষণে মন্তব্যটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই ১৬ মে, বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ নিয়ে পড়াশোনা করা ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দিপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করেন। সেখানে লেখা ছিল—“Eligibility criteria: unemployed, lazy, chronically online, ability to rant professionally.” অর্থাৎ, “বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারলেই সদস্য হওয়া যাবে।” ব্যঙ্গাত্মক এই পোস্টই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। জন্ম নেয় “Cockroach Janta Party”।

কে এই অভিজিৎ দিপকে?

Abhijeet Dipke

৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ নিয়ে পড়ছেন। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

একাধিক সাক্ষাৎকারে দিপকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি প্রথমে ছিল “একেবারে হঠাৎ মাথায় আসা মজা”। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ যোগ দেওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন, এটি কেবল হাসির বিষয় নয় বরং দেশের তরুণদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কেন ‘ককরোচ’ নাম?

এই নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য, “যদি যুবসমাজের কথা বললেই তাদের ককরোচ বলা হয়, তাহলে সেই পরিচয়কেই আমরা নিজেদের করে নেব।” তিনি আরও বলেন, ককরোচ সাধারণত নোংরা ও পচা পরিবেশে জন্মায়। (Cockroach Janta Party) সেই প্রতীক ব্যবহার করেই তারা বোঝাতে চেয়েছে— দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এমন পচন ধরেছে, যেখানে “ককরোচদের” বেরিয়ে আসতে হচ্ছে।

কীভাবে ভাইরাল হল Cockroach Janta Party?

ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) উত্থান মূলত সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক। ইনস্টাগ্রামে, এক্স (টুইটার), মিম সংস্কৃতি এবং Gen Z হিউমর ব্যবহার করেই তারা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে—কয়েক হাজার সদস্যপদ আবেদন জমা পড়ে। ইনস্টাগ্রামে কয়েক লক্ষ ফলোয়ার হয়, X-এ কয়েক হাজার ফলোয়ার তৈরি হয়, নিজেদের ওয়েবসাইট CockroachJantaParty.org, স্লোগান এবং “party anthem” চালু করে CJP। মুহূর্তেই “Main Bhi Cockroach” স্লোগানটি ভাইরাল হয়ে যায়।

তরুণদের একাংশ মনে করেছে, এই ব্যঙ্গের ভিতরেই রয়েছে তাদের বাস্তব হতাশা— বেকারত্ব, পরীক্ষা দুর্নীতি, রাজনৈতিক হতাশা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস।

Cockroach Janta Party-র মূল বক্তব্য কী ?

দলের ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে— “Voice of the lazy and unemployed” অর্থাৎ, “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর”। তারা দাবি করেছে, দেশের সেই মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করতে চায় “যাদের সিস্টেম প্রাধান্য দেয় না”। আরও একটি লাইন বিশেষভাবে ভাইরাল হয়েছে—“That’s the mission. The rest is satire.”অর্থাৎ, “এটাই লক্ষ্য, বাকিটা ব্যঙ্গ।”

এছাড়াও দলের সদস্য হওয়ার জন্য যেসব “যোগ্যতা” বলা হয়েছে, তা পুরোপুরি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখা—

  • বেকার হতে হবে
  • অলস হতে হবে
  • সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে
  • পেশাদারভাবে রাগ বা অভিযোগ জানাতে জানতে হবে
Cockroach Janata Party

তবে বাস্তবে ছাত্র, চাকরিপ্রার্থী, তরুণ পেশাজীবী, মিম-পেজ অ্যাডমিন থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে হতাশ যুবকদের বড় অংশ এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ব্যঙ্গের মোড়কে হলেও দলের পাঁচ দফা দাবি যথেষ্ট রাজনৈতিক।

ম্যানিফেস্টোর উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হলো—

  • সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ
  • দলবদলকারী সাংসদ-বিধায়কদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা
  • অবসরের পরে কোনও প্রধান বিচারপতিকে রাজ্যসভা আসন না দেওয়া
  • “গোদি মিডিয়া” অ্যাঙ্করদের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্ত
  • নির্বাচনে বৈধ ভোট মুছে গেলে কড়া ব্যবস্থা

এছাড়াও নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এই ইস্যুতে সরব হয়েছে CJP। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে এবং CBSE-র রিচেকিং ফি বাতিলের দাবি তুলেছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে এই ভাইরাল ট্রেন্ডে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ— মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ।

Mahua Moitra and Kirti Azad

কীর্তি আজাদ X-এ মজা করে লেখেন, “আমি কি যোগ দিতে পারি? যোগ্যতা কী?” জবাবে CJP লেখে—“1983 World Cup জেতা যথেষ্ট যোগ্যতা।”

মহুয়া মৈত্রও পার্টির পোস্ট শেয়ার করে সমর্থন জানান। তবে CJP জানিয়েছে, এটি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম নয়। যে কেউ যোগ দিতে পারে— বিজেপি বাদে।

মিম নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এটাই— ককরোচ জনতা পার্টি কি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ড, নাকি এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইঙ্গিত? এই বিষয়ে অভিজিৎ দিপকে নিজেই বলেছেন—“It has moved beyond a joke now.” তিনি জানিয়েছেন, এত মানুষের সাড়া পাওয়ার পর এটিকে আর শুধুমাত্র মজা হিসেবে ফেলে রাখা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বাস্তব রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের দিকেও যেতে পারে CJP।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

ভারতের তরুণ প্রজন্ম এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে মিম, ব্যঙ্গ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায়। (Cockroach Janta Party) ককরোচ জনতা পার্টি সেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতীক।এটি হয়তো কোনও বাস্তব রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু এটি স্পষ্ট করেছে—দেশের যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কতটা গভীর। আর সেই কারণেই “Cockroach” শব্দটিকে অপমান নয়, প্রতিবাদের প্রতীক বানিয়ে ফেলেছে একদল তরুণ।

সব মিলিয়ে, ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) এখন শুধু একটি ভাইরাল মিম বা ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন ক্যাম্পেন নয়— এটি ধীরে ধীরে যুবসমাজের হতাশা, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের ডিজিটাল প্রতীক হয়ে উঠছে। বেকারত্ব, পরীক্ষা দুর্নীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার মাঝে জেন জি প্রজন্ম যে নিজেদের ভাষায় প্রতিবাদ করতে চাইছে, CJP তারই এক নতুন উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই ‘ককরোচ’ আন্দোলন বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে কিনা, তা সময় বলবে। তবে এতটা স্পষ্ট যে, ভারতের তরুণদের একাংশ এখন আর শুধু দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়।

 ‘TN 07 CM 2026’ থেকে বাস্তবের মুখ্যমন্ত্রী, বিজয়কে বিশেষ স্মারক উপহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ‘Cockroach Janta Party’র— মিম, প্রতিবাদ নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা?

Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

1 thought on “সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ‘Cockroach Janta Party’র— মিম, প্রতিবাদ নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা?”

Leave a Comment