জমি নিয়ে বিবাদ (Clash over land)। বিবাদ গড়াল সংঘর্ষে। আলিপুরদুয়ারে ফালাকাটা ব্লকের উমাচরণপুরে জমি মাপজোককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো। অভিযোগ, ভোজালি, বল্লম, লাঠি-সোটা নিয়ে এক পরিবারের উপর নৃশংস হামলা চালায় বেশকিছুজন। ঘটনায় গুরুতর জখম হন এক যুবক। তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই যুবক।
সূত্রের খবর, ফালাকাটা ব্লকের উমাচরণপুরে রেশন ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়ালের জমির মাপজোক চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু মানুষ। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলামকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন জমি কার। উত্তরে তিনি জানান, ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়ালের জমি এবং তিনি আগে ওই জমিতে চাষ করতেন। অভিযোগ, এই কথা বলার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল মজিদ প্রধান নামে এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ শফিকুল ইসলামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ (Clash over land)।
বাবাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন ছেলে উমর আহমেদ। অভিযোগ, তখনই সাইফুল আলম প্রধান ভোজালি দিয়ে উমরের উপর নৃশংস হামলা চালায়। তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। একই সময় আইনুল হক প্রধান বল্লম দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম ওই যুবক বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও তিন সদস্য।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে উমরকে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে তাঁকে কোচবিহার গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি। এই হামলায় আহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মানজিনা খাতুন এবং ছেলে মিশকাত আহমেদ-ও।
ওই জমির মালিক ডিলার প্রহ্লাদ আগরওয়াল বলেন, “আমার জমি মাপজোকের কাজ চলছিল। শফিকুল শুধু বলেছিল জমিটা আমার এবং সে আগে চাষ করত। এই কথাতেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিবাদে এর আগেও তার গাড়ির চালককে লাঠি-সোটা দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। অভিযোগ, সুযোগ পেলেই অন্যের জমি দখল, ভয় দেখানো এবং হামলা চালানো ছিল তাদের নিয়মিত কায়দা। আতঙ্কের কারণে অনেকেই এতদিন মুখ খুলতে পারেননি।
অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ প্রধানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, তিনি জোর করে একটি ৬০ বছরের পুরনো পৈতৃক বাড়ি দখল করেছেন।
প্রতিবেশী শ্যামল চন্দ্র সাহার অভিযোগ, তার পরিবারের বহু পুরনো বাড়িটি জবরদখল করা হয়েছে। শ্যামলবাবুর দাদা গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, “থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আমাদের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে।”
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন উমাচরণপুরের বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তোলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব স্থানীয়রা।










