উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়া গ্রামের প্রতিবাদী শিক্ষক ও সমাজকর্মী (Barun Biswas Murder Case) বরুণ বিশ্বাসের হত্যার ১৪ বছর পূর্তিতে ফের ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হলো তাঁর পরিবার। গাইঘাটার সুটিয়া এলাকায় বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুদিন পালনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর হত্যাকাণ্ডের ফাইল পুনরায় খুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়া এলাকায় একের পর এক নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন সেখানকার বাসিন্দা তথা কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। শুধু নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেই নয়, এলাকার খাল-বিল ভরাট, নদীর চর দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং তার পিছনে থাকা রাজনৈতিক মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
(Barun Biswas Murder Case) ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙ্গা স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি ফেরার পথে স্টেশন চত্বরে তাঁকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়দের দাবি, আতঙ্কের পরিবেশ এতটাই প্রবল ছিল যে, দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তাঁকে উদ্ধার করতে সাহস পাননি কেউ। পরে কয়েকজন সাধারণ মানুষ তাঁকে প্রথমে গোবরডাঙ্গা এবং পরে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।
‘ভার্জিন, ৬ ফুট লম্বা, মাসে ২ লাখ বেতন!’— পাত্রের জন্য তরুণীর ১১ শর্ত, তোলপাড় নেটদুনিয়া
(Barun Biswas Murder Case) বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও, তাঁদের মধ্যে একজন ষোলো বছরের নাবালক ছিল, যে গুলি চালিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। পরিবারের অভিযোগ, সেই নাবালকের পরিবারকে অর্থের বিনিময়ে এই হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। গাইঘাটা থানার পাশাপাশি CID-ও তদন্তে নেমেছিল।
বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা বিশ্বাস শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা রয়েছে। যদিও দীর্ঘ ১৪ বছরেও সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের অনেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।
বরুণ বিশ্বাসের বাবা জগদীশ বিশ্বাস কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমি জীবিত থাকা অবস্থায় দোষীরা শাস্তি পাক, সেটাই দেখতে চাই। আমার আত্মা শান্তি পাবে যদি আমার ছেলের খুনিরা শাস্তি পায়। আমরা ১৪ বছর ধরে বিচারের আশায় বসে আছি। আগের সরকার কোনও সহযোগিতা করেনি। এখন বিশ্বাস করি, বিচার পাব।”
(Barun Biswas Murder Case) ঘটনার দিন এক চা বিক্রেতা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সন্ধেবেলা শুনি একটা লোককে খুন করা হয়েছে। পরে জানতে পারি তিনি বরুণ বিশ্বাস। কেন খুন করা হয়েছিল, সেটা জানতাম না। টিকিট কাউন্টারের কাছেই ঘটনাটি ঘটেছিল।” দীর্ঘ ১৪ বছর পরেও সেই দিনের আতঙ্ক ও শোকের স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মনে স্পষ্ট বলে জানান তিনি।
বারুইপুরকাণ্ডে ৬ সদস্যের SIT গঠন, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন, তবে সেই রাতে স্টেশনে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান, “আমি পরের ট্রেনে ফিরেছিলাম। তখন বরুণদার দেহ ছিল না, শুধু রক্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। সুটিয়ার ধর্ষণকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ইছামতী প্রকল্প সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে তাঁর মৃত্যুর কারণ হতে পারে শুনেছিলাম।”
অন্যদিকে, হাবড়া কংগ্রেসের সভাপতি প্রণব ভট্টাচার্য বলেন, “বরুণ বিশ্বাস ছিলেন প্রতিবাদী মুখ। তাঁর হত্যার পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। আগের সরকার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। বর্তমান সরকার যদি তদন্ত পুনরায় শুরু করে, তবে আমরা স্বাগত জানাব। যে বা যারা দোষী, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।”
প্রসঙ্গত, বরুণ বিশ্বাসের জীবন ও আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, আজও তাঁর হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তাই ১৪ বছর পরও তাঁদের একটাই আবেদন— “বরুণ বিশ্বাস হত্যার ফাইল পুনরায় খুলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”











