বারুইপুরকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। নাবালিকা খুনে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৩। পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দ সর্দার নামে একজনকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই নাকি মূল অভিযুক্ত। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাঁকেই নাকি খুঁজছিল পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তে ৬ সদস্যের দলের সিট গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে রবিবার রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। সোমবর সকালে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে (baruipur case)।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম উত্তেজনা বা বেআইনি জমায়েতে না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রশাসনে কড়া পদক্ষেপ। ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। ওই দলে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত, বারুইপুরের এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন, কোর্ট অফিসার জয়ন্ত দাস, রনি সরকার, বারুইপুর এসওজি সৌমেন দাস, বারুইপুরের আইসি জয়ন্ত পোদ্দার, আইও, দিগন্ত মণ্ডল (baruipur case)।
সোমবার সকালেই নাবালিকার বাড়িতে যান তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরিবারেরের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেই দলে ছিলেন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভাস সর্দার। তৃণমূলের পাশাপাশি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বাম নেতারাও।
বারুইপুরকাণ্ড নিয়ে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “নাবালিকাকে যেভাবে নৃশংসভাবে খুন খুন করা হয়েছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ হওয়া খুব স্বাভাবিক। এর নিন্দার কোনও ভাষা নেই। পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই। যাঁরা এই ঘটনায় অপরাধ করেছে তাঁদের সকলের শাস্তি চাই। মুখ্যমন্ত্রী নাকি ফোন করেছিলেন, অভয়ার কেস নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন দেখবেন। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি। এই তদন্ত কতদূর যাবে তাঁর কোনও নিশ্চয়তা নেই। পুলিশ নিশ্চুপ থেকেছে। আমরা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
বারুইপুরের এই ঘটনার পরই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দোষীদের কঠোর শাস্তি হবে। নাবালিকার বাবাকে মঙ্গলবার ভবনীভবনে আসতেও বলেন তিনি। এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। নাবালিকা খুনের পাশাপাশি গণপিটুনি ও পুলিশকে মারধরের মামলাও রুজু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বারুইপুর ও লাগোয়া এলাকায় বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা লাগু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহলও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।












1 thought on “বারুইপুরকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত, নিহতের বাড়িতে তৃণমূল ও বামেদের প্রতিনিধি দল”