অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনল বিশেষ তদন্তকারী টিম (SIT). তবে প্রাথমিক তদন্তে মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা অনুদান গণনার সিদ্ধান্তে সরাসরি জড়িত থাকার কোনও প্রমাণই মেলেনি। তদন্তে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে প্রাক্তন ট্রাস্টি ড. অনিল মিশ্রের ভূমিকার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রমে চম্পত রাইয়ের তদারকি থাকলেও, ব্যাঙ্কের সঙ্গে চুক্তি, অনুদান গণনার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথিতে ড. অনিল মিশ্রেরই স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও চম্পত রাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। (Ram Mandir Donation Theft )
তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। আগামী ১৫ জুলাইয়ের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে SIT. তদন্তকারীদের মতে, চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে ট্রাস্টের শীর্ষ পর্যায়ের তদারকির দায়িত্বে থাকা চম্পত রাইয়ের প্রশাসনিক ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এদিকে, তদন্তে অনুদান সংগ্রহ ও গণনার কাজে কর্মী নিয়োগ এবং দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ হচ্ছিল সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিশেষ করে, চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত টিন্নু যাদবের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, অনুদানের বাক্সের চাবি নাকি তাঁর কাছেই থাকত।
এই ঘটনার জেরে অনুদান গণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। SIT ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর বহু কর্মী কাজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে যেখানে ২০-২৫ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭- ১৮ জনে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি একাধিক লোক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত? কেন ভয় পাচ্ছেন ওই কর্মীরা? (Ram Mandir Donation Theft)
উল্লেখ্য, অনুদান গণনার দায়িত্বে থাকা একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ছয় কর্মী- অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ, অবিনাশ, করুণেশ পাণ্ডে এবং রামাশঙ্করকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই ছয়জনকেই শুধুমাত্র কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দিলেও, তদন্তের ভয়ে অনেকেই কাজে আসছেন না বলে অভিযোগ।













1 thought on “রাম মন্দিরের অনুদান কাণ্ডে প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ SIT এর, চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে মিলল না প্রমাণ”