ক্রিকেট ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান হলো। প্রয়াত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যর গ্যারি সোবার্স (Garry Sobers)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত সোবার্সের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং প্রতিটি বিভাগেই তাঁর অসামান্য দক্ষতা তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
খুব অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন সোবার্স। মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ১৯৫৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে সুযোগ পান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দলের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেটার হিসেবে। দেশের জার্সিতে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে তিনি সংগ্রহ করেন ৮,০৩২ রান। তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮, যা আজও টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ হাজারের বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে অন্যতম সেরা। শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন এক জীবন্ত বিভীষিকা। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৩৫টি উইকেট। এই বিরল কৃতিত্বই তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের মর্যাদা দিয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তাঁর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৮৩টি ম্যাচে ২৮ হাজারেরও বেশি রান করার পাশাপাশি তিনি নিয়েছেন এক হাজারের বেশি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের হয়েও খেলেছেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের অসাধারণ ক্রিকেট প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছেন এই কিংবদন্তি।
গ্যারি সোবার্সের (Garry Sobers) কেরিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে ১৯৬৮ সালে। ইংল্যান্ডে গ্ল্যামরগানের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির একটি ম্যাচে এক ওভারের ছয়টি বলেই ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা মারার নজির গড়া প্রথম ব্যাটার ছিলেন তিনিই। আজও সেই কীর্তি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।
ক্রিকেটে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে সম্মানিত করে। সেই থেকেই তাঁর নামের আগে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘স্যর’ শব্দটি।
স্যর গ্যারি সোবার্সের (Garry Sobers) মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট, বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ড এবং বহু প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটার। তাঁর বিদায়ে ক্রিকেট হারাল এমন এক মহাতারকাকে, যিনি তাঁর নিজের অসাধারণ প্রতিভা এবং খেলার প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে যুগের পর যুগ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
মেসিদের তাড়া করছে ‘তিলকারা অভিশাপ’, কী এটি?










