অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে বড় সাফল্য পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মূল অভিযুক্ত রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুর জেরার ভিত্তিতে গভীর রাতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি, মোটরসাইকেল, সোনার গয়না, নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে জমা পড়া অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করে সেই অর্থ দিয়ে গাড়ি, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই মামলায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। (Ram Temple Donation Theft)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টিন্নু যাদবকে ৩৯ ঘণ্টার পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভোররাত প্রায় ৩টের সময় একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রাম জন্মভূমি কমপ্লেক্সের কাছের একটি বাড়িতেও তল্লাশি হয়। সেখানে থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চারচাকা গাড়ি, মোটরসাইকেল, সোনার অলঙ্কার, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন আর্থিক নথি। পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পত্তির দলিল এবং সুদে টাকা ধার দেওয়ার রেকর্ডও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। (Ram Temple Donation Theft)
রাম মন্দির অনুদান চুরি: SIT রিপোর্টে চম্পত রাইয়ের গাফিলতির অভিযোগ
তদন্তে এখনও পর্যন্ত তিনটি চারচাকা গাড়ি, যার মধ্যে বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে, একটি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট মোটরসাইকেল, সোনার গয়না, নগদ টাকা, সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের কাগজ এবং অন্যান্য আর্থিক নথি উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, আত্মসাৎ হওয়া টাকার আরও সম্পত্তি ও বিনিয়োগের হদিস মিলতে পারে। পুরো অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও উদ্ধার ও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। (Ram Temple Donation Theft)
এদিকে, রাম মন্দিরের দান সংক্রান্ত অনিয়মের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে CCTV তে অন্তত ৭০ টি সন্দেহজনক ঘটনা ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মী নগদ টাকার বান্ডিল লুকিয়ে রাখছেন বলে অভিযোগ। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় কর্মীদের তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকা, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের উপর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং একাধিক দানবাক্সের টাকা একসঙ্গে গণনা করার মতো নিরাপত্তার ফাঁকফোকরই এই ঘটনার সুযোগ করে দেয়।
SIT র রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্ত শুরুর আগেই কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৭৮.৯৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া ৪ জুন গণনাকক্ষ সংলগ্ন একটি বাথরুম থেকে আরও ২.২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া রুপোর ইট বা অন্য মূল্যবান উপঢৌকন নিখোঁজ হওয়ার দাবির পক্ষে প্রাথমিক তদন্তে কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল। তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। (Ram Temple Donation Theft)
আরও পড়ুন :- রাম মন্দিরে অনুদান দুর্নীতি ঘিরে তোলপাড়, উদ্ধার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা












