নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং ছাত্রদের আন্দোলন ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। তারফলে এই আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজাও বাড়ছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা চায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করুন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসুক। অন্যদিকে, সরকারের সমর্থক মহলের একাংশ অভিযোগ করছে, এই আন্দোলনের পিছনে একটি সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা রয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থ ও বিদেশি প্রভাবের অভিযোগও উঠছে। এই বিতর্কের মাঝেই বারবার সামনে আসছে একটি বহুল আলোচিত শব্দ ‘ডিপ স্টেট’ (Deep State)। কী এই ডিপ স্টেট? কেন এই আন্দোলনের সঙ্গে বারবার এর নাম জড়িয়ে যাচ্ছে?
What is Deep State?
‘ডিপ স্টেট’ বলতে সাধারণভাবে এমন একটি অঘোষিত বা গোপন ক্ষমতাকাঠামোকে বোঝানো হয়, যা নির্বাচিত সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্রের নীতি, প্রশাসনের কাজকর্ম বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।এই ধারণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরকার বদলালেও কিছু স্থায়ী শক্তি (যেমন প্রশাসনের একটি অংশ, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা কাঠামো বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী) দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখে এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন ঘটনার গতিপথকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। অর্থাৎ কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে তাতে এদের ওপর কোনও প্রভাব পড়ে না। সরকার এবং সমাজের ওপর এদের একটি পরোক্ষ ক্ষমতা সবসময়ই বজায় থাকে।
কোথা থেকে এল ‘ডিপ স্টেট’ ধারণা?
‘ডিপ স্টেট’ শব্দটির উৎপত্তি তুরস্কে। ১৯৯০-এর দশকে তুর্কি ভাষার ‘দেরিন দেভলেত’ (Derin Devlet) শব্দটি জনপ্রিয় হয়। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, দেশের সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ এবং কিছু গোপন গোষ্ঠী মিলিতভাবে নির্বাচিত সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করছে। পরে এই শব্দটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
কীভাবে কাজ করে ‘ডিপ স্টেট’?
ডিপ স্টেট তত্ত্বের সমর্থকদের মতে, এই ধরনের গোষ্ঠী সরাসরি সামনে আসে না। বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রভাবশালী ব্যক্তি, অর্থনৈতিক শক্তি, তথ্যপ্রচার বা অন্যান্য উপায়ে পরোক্ষভাবে জনমত ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যেখানে রাষ্ট্রের কিছু সংস্থা গোপনে বা আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু প্রতিটি বড় রাজনৈতিক আন্দোলন বা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পিছনেই একটি ‘ডিপ স্টেট’ কাজ করছে—এমন দাবি সমর্থন করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সাধারণত পাওয়া যায় না।
ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে আক্রমণ রাহুলের
CJP আন্দোলনের সঙ্গে কেন জুড়ছে ‘ডিপ স্টেট’-এর নাম?
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দিল্লিতে CJP এবং ছাত্রদের যৌথ আন্দোলনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই কিছু রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষক দাবি করছেন, আন্দোলনটি শুধুমাত্র ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ নয়। তাঁদের অভিযোগ, এর পিছনে এমন কিছু বাহ্যিক শক্তি সক্রিয় থাকতে পারে, যারা দীর্ঘমেয়াদে সরকারকে চাপে ফেলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির করার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই তাঁরা ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করছেন।
এছাড়া আন্দোলনে বিদেশি অর্থ বা বিদেশি স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে বলেও কিছু মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনও চূড়ান্ত বা সঠিক প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনও মূলত রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে নিট ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ঘিরে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। একপক্ষ এটিকে বিদেশি প্রভাব ও গোপন শক্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে, অন্যপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে। ফলে আপাতত বলা যায়, CJP আন্দোলনের সঙ্গে ‘ডিপ স্টেট’-এর যোগ নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়, এর পক্ষে কোনও প্রকৃত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।












3 thoughts on “CJP আন্দোলনে বারবার উঠছে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রসঙ্গ, কী এটি, কেনই বা জড়াচ্ছে এই বিতর্কে?”