আরশোলাদের পর এবার মুরগি? তবে যে সে মুরগি নয় একেবারে ব্রয়লার মুরগিদের আন্দোলন শুরু হয়েছে পড়শি দেশে। সম্প্রতি ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আদলে এবার বাংলাদেশেও আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party)। এটি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। তবে কী দাবি এই মুরগিদের?
Broiler Chicken Party: কেন শুরু হলো ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’?
সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন শহরের একাধিক জায়গায় জল জমার পরেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থী। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ‘ফার্মের মুরগি’ বা ‘ব্রয়লার মুরগি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
ওই ঘটনার প্রতিবাদেই গত ১৪ জুলাই ফেসবুকে চালু হয় ‘Broiler Chicken Party’ নামে একটি পেজ। জেন-জি শিক্ষার্থীদের তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের স্লোগান, ‘We are not insulted, We are awakened’ (আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত)। বর্তমানে পেজটির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। নিজেদের পরিচয় দিতে গিয়ে তারা লিখেছে, এটি একটি অরাজনৈতিক, বাংলাদেশপন্থী সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। তাদের অন্যতম দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।

CJP আন্দোলনে বারবার উঠছে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রসঙ্গ, কী এটি, কেনই বা জড়াচ্ছে এই বিতর্কে?
ভারতের থেকেই নিতে হলো অনুপ্রেরণা
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা এসেছে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ থেকেই। ভারতে তরুণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে তৈরি হওয়া এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজের অনেকেই।
এই থেকে শিক্ষা নিয়েই নিজেদের প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে এবার বাংলাদেশের ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ ও নিজেদের আন্দোলন শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি এখন সে দেশের তরুণদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরার নতুন মাধ্যম হিসেবেই এটিকে দেখছেন অনেকেই।












