ভারত সহ ১৭টি দেশের আমদানি পণ্যের উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা করেন। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। প্রথমে ভারতের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ১৪ জুন ভারত সরকার বিদেশি বাণিজ্য নীতিতে সংশোধন এনে বলপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করায় সেই হার কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। (US Tariff on Indian Imports)
১৭টি দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বলপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথাযথ আইন বা তার কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ, কানাডা, পাকিস্তান-সহ ১৭টি দেশকে ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাকিদের জন্য শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ। চিন, জাপান এবং ইংল্যান্ড মতো দেশগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে, কারণ তাদের আইনে এই ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান নেই বলে দাবি ওয়াশিংটনের। (US Tariff on Indian Imports)
ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষাই লক্ষ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বলপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করতেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জেমিসন গ্রিয়ারের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ শুধু মানবাধিকার রক্ষার জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতাও কমাতে সাহায্য করবে। (US Tariff on Indian Imports)
কিছু পণ্যে ছাড়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে ভারত
তবে যেই পণ্য সরবরাহ বন্ধ করলে আমেরিকায় সমস্যা তৈরি হবে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এই ধরনের বিষয় চলতি ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো উচিত বলে দাবি ভারতের। ওয়াশিংটনের শিল্পমহলের প্রতিনিধি অভীক সেনগুপ্তের মতে, ১২.৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতি ইতিবাচক বার্তাও বহন করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ৮৭.৩ বিলিয়ন ডলার। (US Tariff on Indian Imports)
আরও পড়ুন :- ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি; ইরানে ফের আমেরিকার হামলা













2 thoughts on “শ্রমিকদের উপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ, ভারতীয় পণ্যে ১০% শুল্ক চাপাল আমেরিকা”