বীরভূমের মহম্মদবাজারে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় মিনার মণ্ডলকে অবশেষে গ্রেফতার করলো পুলিশ। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় হলেন মিনার মণ্ডল। বুধবার তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর রাতভর চলে বাজেয়াপ্ত তালিকা তৈরির কাজ। বৃহস্পতিবার সকালে নগদ টাকা ও সোনা ট্রাঙ্কে ভরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপরই মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিউড়ি আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে যায় তদন্তকারীরা।
Minar Mandol Arrested: গ্রেফতারের সময় নীরব মিনার
বৃহস্পতিবার সকালে মিনার মণ্ডলকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় সাংবাদিকরা একাধিকবার জানতে চান, এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস কী, এই টাকা কার এবং কোথা থেকে এসেছে। তবে সমস্ত প্রশ্নেরই জবাবে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন তিনি। অন্যদিকে মিনারের ছেলে দাবি করেছেন, তাঁদের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না।
যদিও বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার মণ্ডল নিজেই স্বীকার করেছেন যে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের সঙ্গেই যুক্ত। এই স্বীকারোক্তির পর তদন্তকারীরা গোটা আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য অপরাধচক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।
ডাকাতি মামলার তদন্ত থেকে সন্ধান ‘টাকার খনি’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ একটি ডাকাতি মামলায় সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। ধৃত সাতজন হলেন— অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার সিউড়ি আদালত তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
সেই তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের দেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। আর ওই অভিযান টানা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে। বুধবার রাতেই বীরভূমের পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় ২৮ কোটি নগদ টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও মূল্যবান ধাতু উদ্ধার হওয়ায় রাতভর চলে সিজার লিস্ট তৈরির কাজ। পুরো অভিযান চলাকালীন বাড়ি ঘিরে রেখেছিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর। (Minar Mandol Arrested)
অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বালি-পাথর মাফিয়ার ডেরায় পুলিশের ‘মেগা রেড’; ২০ কোটি টাকা, ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার
ট্রাঙ্ক ও আলমারিতে লুকিয়ে রাখা ছিল টাকা-সোনা
বৃহস্পতিবার সকাল হতেই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী একে একে বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। মোট ছয়টি ট্রাঙ্ক এবং দুটি আলমারি বাড়ি থেকে বের করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রাখা ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনা।ট্রাঙ্কগুলি পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়। অন্যদিকে আলমারিগুলি একটি ছোট পণ্যবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সব বাজেয়াপ্ত সামগ্রী নিয়ে মহম্মদবাজার থেকে পুলিশ রওনা দেয় সিউড়ি ট্রেজারির উদ্দেশে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
বীরভূমে বিপুল নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বুধবারই প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।”
Commendable job by our Law Enforcement personnel for the crackdown on Sand Mafia.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 29, 2026
Following a precise operation based on source based information, Birbhum Police conducted a major raid under Mohammad Bazar PS targeting the hideout of illegal sand mafia Tullu Mondal alias Mohd… pic.twitter.com/Ln4XJCWKKY
এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি সম্পদ লুট করে, অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে বা তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করে যাঁরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, মিনার মণ্ডলের গ্রেফতারির পর তদন্ত এখন আরোও জোরালো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার প্রকৃত মালিক কে, এর উৎস কী, অপরাধচক্রের সঙ্গে কারা যুক্ত— সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।










