বীরভূমের মহম্মদবাজারে পলাতক বালি ও পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবুদ্দিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাড়িতে পুলিশের অভিযানে (Birbhum Police Raid) উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি যে, নোট গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে পাঁচটি কাউন্টিং মেশিন, প্রিন্টার এবং একাধিক বড় ট্রাঙ্ক। ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Birbhum Police Raid: ভোররাতের অভিযান পুলিশের
মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয়। (Birbhum Police Raid) গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বাড়ির বিভিন্ন আলমারি ও ঘর থেকে থরে থরে নোটের বান্ডিল উদ্ধার হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া নগদ বাজেয়াপ্ত ও গণনার জন্য আনা হয় পাঁচটি নোট গোনার মেশিন, দুটি প্রিন্টার এবং বড় বড় ট্রাঙ্ক। অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও।
সরকারি বাসচালক থেকে পাথর ব্যবসার ম্যানেজার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল একসময় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবুদ্দিনের পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি টুলুর আত্মীয় এবং দীর্ঘদিন তাঁর ব্যবসার দেখভাল করতেন বলে অভিযোগ। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে এবং ডেউচায় তৈরি হয় প্রাসাদোপম বাড়ি।
আগাম জামিনের আবেদন খারিজ, এবার কি গ্রেফতার মমতা ঘনিষ্ঠ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী?
Birbhum Police Raid: ২০ কোটির বেশি নগদ, ১৫ কেজি সোনা!
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ২৫টি ব্যাগ ভর্তি নগদ, ২০ কোটিরও বেশি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনার বার ও বিস্কুট উদ্ধার হয়েছে, যার বাজার মূল্য ২২ কোটি টাকা। যদিও পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করেনি। (Birbhum Police Raid) উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পদের উৎস এবং বেআইনি বালি-পাথর ব্যবসার সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টুলু মণ্ডল বর্তমানে পলাতক বলেও জানা গিয়েছে।
ইডির নজরে ছিল টুলু, এবার পুলিশের বড় অভিযান
২০২১-২২ সালে গোরু পাচার মামলার তদন্তে টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবুদ্দিনের নাম উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, তিনি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ মহল এবং তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা সায়গল হোসেনের কাছের ব্যক্তি ছিলেন। সেই সময় ইডিও তাঁকে তলব করেছিল এবং তাঁর একাধিক সম্পত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি বালি ও পাথর ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
Birbhum Police Raid: মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা— ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’
Commendable job by our Law Enforcement personnel for the crackdown on Sand Mafia.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 29, 2026
Following a precise operation based on source based information, Birbhum Police conducted a major raid under Mohammad Bazar PS targeting the hideout of illegal sand mafia Tullu Mondal alias Mohd… pic.twitter.com/Ln4XJCWKKY
অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্সে বীরভূম পুলিশ, রাজ্য পুলিশের DGP এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশকর্মীদের অভিনন্দন জানান। ১২টা ২৮ মিনিট নাগাদ তিনি লেখেন, নির্ভুল সূত্রের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ₹৫.৫ কোটি নগদ গণনা হয়েছে, যদিও গণনা এখনও চলছে। পাশাপাশি ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স পলিসি’ অব্যাহত থাকবে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা অবৈধ সম্পদ গড়েছেন, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। জনসাধারণের সম্পদ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা চলবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।












3 thoughts on “অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বালি-পাথর মাফিয়ার ডেরায় পুলিশের ‘মেগা রেড’; ২০ কোটি টাকা, ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার”