দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার তীরে ‘আরণ্যক বনভোজন উদ্যান’-এ এবার উঠল পশু-পাখি পাচারের গুরুতর অভিযোগ। বুধবার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের তির তৃণমূল কাউন্সিলারদের দিকে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই উদ্যানে ১৩টি ময়ূর, একাধিক কচ্ছপ, টিয়া পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি পাখি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ময়ূর বা কোনও বিদেশি পাখি প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, বাকি পাখি ও কচ্ছপগুলিও বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। (Animal Smuggling Case)
বুধবার বারুইপুরের বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী ওই পশু উদ্যানে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে পশু-পাখির অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি দেখে তিনি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৌতম চক্রবর্তীর দাবি করেন, ‘তৃণমূল সরকার এবং তাদের কাউন্সিলররা ১৫ বছর ধরে গরু,বালি, কয়লার পাশাপাশি পশু পাখিও চুরি করেছে। বারুইপুরবাসীরা দেখলো কীভাবে এতদিন একটা অবৈধ পশুপাচার চক্র কাজ করছিল। আর এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বারুইপুরের ১৭ জন কাউন্সিলর।’
একইসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই আরণ্যক বনভোজন উদ্যানে আগে বাচ্চারা আসত, পশু পাখি দেখতে। এখানে ১৩ টি ময়ূর ছিল, হঠাৎ রাতারাতি সব গায়েব হয়ে যায়। এলাকার মানুষ প্রশ্ন করলে অসংগতিপূর্ণ উত্তর দেয় দায়িত্বে থাকার কর্মীরা। আর এরপরই বারুইপুর থানার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, আইনি পথে এই পশু পাচারকারীদের বিচার হবে।
অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বালি-পাথর মাফিয়ার ডেরায় পুলিশের ‘মেগা রেড’; ২০ কোটি টাকা, ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে বারুইপুর পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। (Animal Smuggling Case)
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন দাবি করেছেন, উদ্যানে থাকা একটি ময়ূরের মৃত্যু হওয়ার পর সেটিকে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবি সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। তার মৃত্যু হলে বন দফতরকে অবিলম্বে জানানো এবং নির্ধারিত সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া কেন মানা হয়নি, এছাড়াও পশু-পাখি পাচারের অভিযোগ থেকে শুরু করে সংরক্ষিত প্রাণীর মৃত্যু সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










2 thoughts on “পশু উদ্যান থেকে রাতারাতি উধাও ময়ূর, কচ্ছপ; পশু পাচারের অভিযোগে আটক ৩”