রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজগুলি আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। এবার থেকে সপ্তাহে অন্তত একদিন বিধায়কদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবেন বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীরা। বিধানসভাতেই এই বৈঠক হবে, যেখানে এলাকার সমস্যা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা যাবে।
সরকারি সূত্রের খবর, কোন দিনে কোন দফতরের মন্ত্রী বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন, সেই সূচি খুব শীঘ্রই তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট দিনে বিধায়কেরা তাঁদের এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, কৃষি-সহ বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে পারবেন। এরপর সেই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। (Ministers-MLAs Meeting)
সরকারি মুখ্যসচেতক অম্লান ভাদুড়ী জানিয়েছেন, সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন মন্ত্রী ও বিধায়কদের বৈঠকের জন্য রাখা হবে। তাঁর কথায়, এই ব্যবস্থার ফলে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানও অনেক দ্রুত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ। বিধানসভার আগের অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি বলেছিলেন, বিধানসভায় মন্ত্রীদের কক্ষ শুধু নামফলক টাঙিয়ে রাখার জন্য নয়। সেখানে নিয়মিত বসে বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাঁদের এলাকার সমস্যা শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরই মন্ত্রীদের কাছে ‘বিধায়ক মিট’ কর্মসূচি চালুর নির্দেশ পৌঁছে যায়।
স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে জমকালো অনুষ্ঠান, ১১ ট্যাবলোয় কুচকাওয়াজে নজর কাড়তে চায় রাজ্য
শুধু তাই নয়, বিধায়কদের বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তরও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এতে প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনই জবাবদিহিও আরও শক্তিশালী হবে।সরকারের দাবি, এতদিন কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেক বিধায়কই সহজে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না। ফলে এলাকার নানা সমস্যা জানাতে এবং তার সমাধান করতে দেরি হতো। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। (Ministers-MLAs Meeting)
উল্লেখ্য, নতুন বিজেপি সরকারের বয়স এখন মাত্র তিন মাস। এখনও বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়নি। তবে আগামী অধিবেশন থেকেই সেই পর্ব চালু হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান। তার আগেই উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনপরিষেবাকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রী ও বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও বিধায়কদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রাখার এবং নিয়মিত তাঁদের সমস্যা শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











1 thought on “সপ্তাহে একদিন মন্ত্রী-বিধায়ক বাধ্যতামূলক বৈঠক, উন্নয়নের গতি বাড়াতে নয়া উদ্যোগ”