একাধারে তিনি সাংবাদিক, কখনও আবার রেলের কর্তা, শুধু সেখানেই থেমে নেই, এলাকার লোককে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন। এমনই অভিযোগ পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের এক যুবকের বিরুদ্ধে। প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এবার সরব হলেন এলাকার এক বাসিন্দা। বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে জেলা পরিষদের ‘জনতার দরবার’-এ। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
Fraud Job Offer: একাধিক চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের উৎসাহে প্রতি বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। জেলার সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে সেখানে সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। গতকাল সেই কর্মসূচিতেই হাজির হন ভগবানপুরের বাসিন্দা মাসুমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর ও আরও কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বাবুই দাস নামের এক যুবক।
মাসুমা বেগমের দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে তিনি নিজেকে একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। পরে কখনও রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সিইও, কখনও একটি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, আবার কখনও প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতর, রেল এবং ব্যাংকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফোন-পে এবং নগদে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কারও চাকরি হয়নি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা অজুহাত দেখানোর পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ডিভাইডারে গাড়ির ধাক্কা, পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের ছেলের
অভিযোগ শুনে পদক্ষেপ জেলা সভাধিপতির
বুধবার জনতার দরবারে জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন মাসুমা বেগম। অভিযোগের নথিপত্র খতিয়ে দেখে বামদেব গুছাইত বলেন, অভিযোগকারীর সমস্ত অভিযোগ শুনে তিনি তদন্তের জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান রাজ্য পুলিশ যেভাবে তৎপর হয়ে কাজ করছে, সেই আবহে এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিকেও দ্রুত গ্রেফতার করে তার যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেই আশাবাদী তিনি। (Fraud Job Offer)
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় মাসুমা বেগম আগেই ভগবানপুর থানায় বুবাই দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও তখন সেই অভিযোগকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি। তবে বর্তমানে পুনরায় সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুবাই দাস কোলাঘাট থানার দেউলিয়া এবং পাঁশকুড়া থানার মেচগ্রামে অফিস খুলে এই কাজ চালাতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দুটি অফিসই গুটিয়ে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি সুইচড অফ অবস্থায় রয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।










