কুশল চক্রবর্তী
খবরে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গের মগরাহাটের মধুসূদন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে এসে কচিকাঁচারা প্রবল অসুবিধায় আক্রান্ত (Government School Condition)। তাদের বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। যখন তখন ছাদ ভেঙে পড়ে বিশাল বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে বিদ্যার প্রথম পাঠ নিতে আসা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের। ১৬৬ জন ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়ের শিক্ষার আলয়ে যেন সর্বত্র বিপদের হাতছানি। একদিকে বৃষ্টির জল পড়ছে তো অন্যদিকে কংক্রিটের চাঙর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। শিক্ষকদের দাবি, বার বার কর্তৃপক্ষকে অনুনয় বিনয় কারার পর তাদের টনক নড়েনি।
সত্যি বলতে কী, ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার হাল হকিকত যারা জানেন তাদের অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নীতিতে মোট GDP-র ৬% শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হবে বলেছেন। কিন্তু এখনও অবধি ৪%-এর বেশি টাকা বরাদ্দ করতে তাঁরা পারেননি। এমনকি সেই সংখ্যা নিয়েও প্রশ্নের জায়গা থেকে গিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে শিক্ষা যৌথ তালিকায় সংযুক্ত হলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তই মোটামুটি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে তাদের শিক্ষা নীতি চালানোর চেষ্টা করে না তা নয়, তবে এখনকার পরিস্থিতিটা একবারেই অন্যরকম। (Government School Condition)
অবশ্যই পড়ুন: পুস্পক রথে আদানির অনীহা?
এই শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দের কতটুকু যে প্রাথমিকস্তর অবধি পৌঁছয় তা নিয়ে পরিসংখ্যান ঘাঁটলেই বুঝতে পারা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগ তার রিপোর্টে বলছে, বিগত দশ বছরে মানে এনডিএ সরকারের আমলে ৯৪০০০ সরকারি স্কুল সারা দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বলতে গেলে প্রতিদিন ২৫টি সরকারি স্কুল দেশের মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেছে। সারা দেশে সংখ্যাটা ২০১৪-১৫ সালে ছিল ১১.০৭ লাখ, তা ২০২৪-২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১০.১৩ লাখে। সরকারি আমলা বা কর্তা ব্যক্তিরা বলতে চাইছেন, জনসংখ্যা হার কমের ফলে পড়ুয়ার অভাব হওয়ায় সরকারি স্কুলে ছাত্র আসছে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই পড়ুয়াহীন স্কুলগুলোকে নিকটবর্তী বড় সরকারি স্কুলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এখানেও প্রশ্ন উঠে আসছে যে, ছাত্রই যদি না পাওয়া যাবে তো প্রাইভেট স্কুলগুলোর এত রমরমা হচ্ছে কী করে? গত দশকে যেখানে সরকারি স্কুল কমছে, সেখানে প্রাইভেট স্কুলের সংখ্যা ২.৮৮ লাখ থেকে ৩.৩৯ লাখ হয়ে গেছে। অনেকে বলছেন, এটা নাকি অভিভাবকদের প্রাইভেট স্কুলের প্রতি অহেতুক ভালোবাসার ফল। সত্যি কি তাই? কারণ, প্রাইভেট স্কুলে পড়ানোর অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করেও যে অভিভাবকরা সেখানে তাদের সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য সরকারি স্কুলের পঠনপাঠনের পদ্ধতি বা মানের ব্যাপার কি একবারেই নেই? (Government School Condition)
অবশ্যই পড়ুন: সাধারণ মানুষের কথা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ভাবে কি?
এরপর আছে স্কুলছুট ছাত্রদের কথা। প্রাইমারি লেভেলে স্কুল ছুটের সংখ্যা ০.৩% হলেও, এই দশ বছরে সেকেন্ডারি পর্যায়ে গিয়ে সেটা দাঁড়াচ্ছে ১১.৫%-তে। অর্থাৎ কি না স্কুল শেষের পরীক্ষায় পাশ করার পর ১০০-র মধ্যে ১১ জনের বেশি ছাত্র কলেজে পৌঁছচ্ছে না। এটা যদি বলা যায় সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য, তাহলে কি একেবার ভুল বলা যাবে? কেরালাম কিন্তু শিক্ষার অগ্রগতির ব্যাপারে এখনও নিজেদের প্রায় অন্য সব রাজ্যের চেয়ে এগিয়েই রেখেছে।
আর তাকিয়ে দেখুন শিক্ষা ব্যবস্থায় নিম্নগতির রাজ্যগুলোর দিকে। দেখতে পাবেন তাতে সবার উপরে বসে আছে উত্তরপ্রদেশ আর মধ্যপ্রদেশ। সেখানকার ৪০০০০ বেশি স্কুল এর মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। আসলে শিক্ষার “প্রকৃত সত্য” উপলব্ধি সবাই করবে এটা ভাবাই হয়তো অন্যায়। সেটা সিঙ্গল ইঞ্জিনই হোক বা ডবল ইঞ্জিন। (Government School Condition)











