কুশল চক্রবর্তী
অবশেষে আদানি গোষ্ঠী জানাল যে তাঁরা কোনও বিমান কোম্পানির ব্যবসায় নামতে ইচ্ছুক নয় (Adani Group Airline Business)। হঠাৎ করে কেন তারা এমন বলতে গেলো? বেশ কয়েক বছর ধরেই তো ভারতবর্ষে তাদের বিমানবন্দর, বিমানের যাত্রী পরিষেবা, এমনকী বিমানবন্দর সংক্রান্ত নানা বাণিজ্যিক ব্যাপারে তাদের অবাধ গতিবিধি ভারতের আটটি প্রধান বিমানবন্দরে তাদের রমরমা। এমনকি ভারতের অন্যতম নামজাদা মুম্বই বিমানবন্দরের উপর তাদের ৭৪% অধিকার। এটাই তো স্বাভাবিক যে তারা আরও বেশী করে বিমানের ব্যবসাটা করার জন্য একটা বিমান কোম্পানি গঠন করবে।
কয়েকদিন আগে ভারতীয় দৈনিকে খবর বেরোয় যে, বিমানবন্দরের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলির বিধিনিষেধ সংক্রান্ত একটি বিশেষ আইনকে পরিবর্তনের জন্য নাকি আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানি থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মাননীয় গৌতম আদানির কোম্পানির কাছ থেকে আসা কোনও অনুরোধ, আশা করি আজ সারা ভারতবাসী জানেন যে, সরকারের কাছে তার ‘ওজন’ কেমন।
আরও পড়ুন: সাধারণ মানুষের কথা প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ভাবে কি?
কী সেই অনুরোধ?
২০০৬ সালে যখন ভারতের কয়েকটি বিমানবন্দর প্রাইভেট কোম্পানিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখনই তৎকালীন সরকার বাহাদুর নিয়ম করেছিলেন যে, কোনও কোম্পানি, যারা কি না বিমানবন্দরের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়ন, ও নানাবিধ পরিচালনা সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকবেন, তাদের হাতে ওই বিমানবন্দর দিয়ে চলা কোনও বিমান কোম্পানির শেয়ার ১০%-এর বেশী থাকবে না। আদানি গোষ্ঠীর অনুরোধ, বিমান কোম্পানিগুলোতে অংশিদারি বাড়ানোর জন্য আইনের সংশোধন করা। আশা করি এতে সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে আদানি গোষ্ঠী কোনও বিমান কোম্পানিতে তাদের শেয়ার বাড়াতে চাইছে। কিন্তু মজা হচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, জিৎ আদানি, ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, গৌতম আদানির কনিষ্ঠ পুত্র ও আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে আদানি গোষ্ঠী বিমান সংস্থা খোলার ব্যবসায় খুব একটা উৎসাহী নয়।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট? টাকা পাবেন কী করে? বড় পদক্ষেপ নিল EPFO
অন্য দিকে আদানি গোষ্ঠীর এই বিমান কোম্পানিতে শেয়ার বাড়ানোর আবেদন নিয়ে, ভারতের অন্যতম বড় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের শীর্ষস্থানীয় কর্ণধার রাহুল ভাটিয়া বলেন, ‘যে কোনও বিমানবন্দর তৈরি করা বা পরিচর্যা করার কোম্পানিকে যদি বিমান সংস্থা গড়তে দেওয়া হয়, তবে তা হবে চরম স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ। একটা বিমানবন্দর পরিচালক, বিমান সংস্থার মালিক হয়ে উঠেছে, পৃথিবীতে এমন উদাহরণ একটিও নেই। যারা বিমানবন্দর চালায় তাঁরা বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে অত্যন্ত জরুরী পরিষেবা দেয়, যেমন কোথায় প্লেন রাখা হবে, কোন বিমান সংস্থাকে কতটা সময় দেওয়া হবে ইত্যাদি। কিন্তু এই জরুরী পরিষেবার দেওয়ার ব্যাপারটা যারা দেখে, তারাই যদি কোনও বিমান সংস্থার মালিক হয়, তবে কি কখনও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হবে?’
আরও পড়ুন: বিক্রি হয়ে যাচ্ছে IDBI Bank, কী হবে আপনার টাকার?
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স যাত্রীদের কথা না ভেবে, একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছিল কারণ ছিল, নিজেদের সংস্থার অসুবিধার। তখনই ভারত সরকার বুঝতে পেরেছিলেন, ভারতের বিমান যাত্রীরা, ইন্ডিগো আর এয়ার ইন্ডিয়ার একচেটিয়া ব্যবসার জন্য মুশকিলে পড়ছে। কারণ, ভারতের বিমান যাত্রীদের ৯০% এই দুই বিমান সংস্থার বিমানই ব্যবহার করে থাকেন। নজর করে দেখুন তারপরের ঘটনা পরম্পরায়। সরকার বাহদুর যে এই সমস্যা কাটাতে আরও নতুন বিমান সংস্থার লাইসেন্স দিতে চান, এটা বোঝার পর থেকেই আদানি গোষ্ঠীর তৎপরতা শুরু। কিন্তু এই খবরটা ফাঁস হতেই, আদানি গোষ্ঠীর কাছ থেকে বিবৃতি উঠে আসছে যে, তারা এয়ারলাইন্স খুলতে চায় না। তবে এয়ারলাইন্স কোম্পানিতে তাদের শেয়ার বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আইন পরিবর্তন করতে অনুরোধ করছে কেন? নাকি সেই চিরন্তন প্রশ্ন, মুরগি আগে না ডিম আগে।











