‘ডিম থেরাপি’। এই জাতীয় শব্দ অভিধানে আছে কিনা জানা নেই। তবে বর্তমানে বেশ চর্চায় আসছে। বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তেন পর হামেশাই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসেছে। এবার তো বাংলা ছেড়ে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছে। যার জেরে সে দেশের সংসদের অধিবেশন পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে। হ্যাঁ। এমনটাই হয়েছে। ইউরোপের ছোট্ট দেশ কসোভোর সংসদে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন এক বিরোধী নেত্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সংসদে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিবেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংসদের সরাসরি সম্প্রচারও থামিয়ে দেওয়া হয় (kosovo parliament)।
kosovo-parliament: “লজ্জা হওয়া উচিত”
জানা গিয়েছে, কসোভোতে গত কয়েক বছর ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতভেদ ও জোট ভাঙনের কারণে দুই বছরেরও কম সময়ে তিনবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছিল। অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। এর প্রতিবাদেই সংসদের সামনের সারি থেকে বিরোধী নেত্রী টাইম কাদ্রিজাজ তাঁর দিকে ডিম ছুড়ে দেন (kosovo-parliament)। ডিম ছোড়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলেন, “শেম অন ইউ” বা “লজ্জা হওয়া উচিত”।
মুহূর্তের মধ্যে সংসদে হইচই শুরু হয়ে যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত কুর্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কুর্তি জানান, গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বার্থে সমালোচনা বা প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলেও মন্তব্য করেন।
সংসদের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস !
উল্লেখ্য, কসোভোর সংসদে এমন বিক্ষোভ নতুন নয়। অতীতেও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিলেন। সেই ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের অদ্ভুত এই পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মজা করে বলছেন, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিচিত ‘ডিম থেরাপি’ এবার পৌঁছে গেল ইউরোপের সংসদেও। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি আসলে কসোভোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলগুলির মধ্যে গভীর মতবিরোধেরই প্রতিফলন।










