কয়েক দিন ধরেই দেশে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় আগামী দিনে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। সরকারি তথ্য ও সাম্প্রতিক বাজার-রিপোর্ট অনুযায়ী, কম উৎপাদন, আবহাওয়ার প্রভাব, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং উৎসবের আগে বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়েই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে চিনির দাম বাড়ায় শুধু চা-কফি নয়, বাড়ির রান্না থেকে মিষ্টির ব্যবসা, বেকারি সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জানেন কি চাইলে রান্নায় চিনির ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে কয়েকটি বিকল্প ব্যবহার করা যায়। এগুলি স্বাস্থ্যের জন্যেও ভালো এবং চিনির বিকল্প হিসেবেও পারফেক্ট। (Healthy Food)
১. স্টিভিয়া
চিনির অন্যতম জনপ্রিয় বিকল্প হলো স্টিভিয়া। এটি একটি উদ্ভিদের পাতা থেকে তৈরি মিষ্টির বিকল্প। চিনির তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি হওয়ায় খুব অল্প পরিমাণেই ব্যবহার করা যায়। সাধারণ স্টিভিয়াতে ক্যালরিও খুব কম বা প্রায় নেই। তাই চা, কফি কিংবা বিভিন্ন পানীয় মিষ্টি করার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করাই যায়। তবে বাজারে পাওয়া স্টিভিয়ার ক্ষেত্রে অনেকসময় সব উপাদান এক হয় না। তাই কেনার আগে লেবেল দেখে নেওয়াই ভালো।
২. মধু
চিনির বদলে মধুও ব্যবহার করা যায়। চা, কফি, শরবত বা কিছু রান্নায় মধু মিষ্টি স্বাদ দিতে পারে। মধুতে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদানও থাকে।তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—মধু মানেই ‘সুগারফ্রি’ খাবার নয়। মধুতেও যথেষ্ট পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি রয়েছে। তাই চিনির বদলে মধু ব্যবহার করলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৩. পাকা কলা
বেকিংয়ের সময় চিনির ব্যবহার কমাতে পাকা কলা বেশ কাজে আসতে পারে। পাকা কলা কেক, প্যানকেক, স্মুদি বা ওটসে মেশানো যায়। এতে খাবারে প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ আসে এবং কিছুটা ফাইবারও পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাড়িতে কেক বা প্যানকেক বানানোর সময় চিনির পরিমাণ কমিয়ে পাকা কলা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
মাত্র ৫৬ দিনে ৯ কেজি কমলো ওজন, নিজের ওয়েটলস জার্নি শেয়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের
৪. খেজুর
খেজুরও প্রাকৃতিক মিষ্টির একটি ভালো উৎস। খেজুর সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি ভিজিয়ে পেস্ট তৈরি করে স্মুদি, ডেজার্ট, ওটস বা বেকিংয়ের বিভিন্ন পদে ব্যবহার করা যায়। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকার পাশাপাশি ফাইবারও রয়েছে। তবে খেজুরও ক্যালরিযুক্ত এবং এতে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। তাই এটাকেও অত্যধিক বেশি খাওয়া উচিত নয়।
৫. গুড়
বাঙালির রান্নায় চিনির সবচেয়ে পরিচিত বিকল্পগুলির একটি হলো গুড়। পায়েস, পিঠে, পাটিসাপটা, চাটনি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে গুড় ব্যবহার করা যায়। চিনির তুলনায় গুড় কম প্রক্রিয়াজাত হলেও এটিও মূলত মিষ্টি ও ক্যালরির উৎস। তাই গুড় ব্যবহার করলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা দরকার। (Healthy Food)
তাহলে কোনটা বেছে নেবেন?
চিনির ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্য যদি হয়, তাহলে সব বিকল্পই একভাবে কাজ করবে না। কম ক্যালরির মিষ্টি চাইলে স্টিভিয়া বিবেচনা করা যায়। অন্যদিকে রান্নার স্বাদ ও উপকরণ অনুযায়ী পাকা কলা, খেজুর বা গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। মধুও ব্যবহার করা যায়, তবে সেটিকেও চিনির মতোই পরিমিত রাখতে হবে।বিশেষ করে যাঁদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা নিজের মতো করে চিনির বিকল্প বেছে না নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভালো।












2 thoughts on “দাম বাড়ছে চিনির, রান্নায় মিষ্টতা আনবেন কী দিয়ে? রইল সহজ কয়েকটি বিকল্প”