বইয়ের মলাট বদলে কাঁটাতার পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ওপার বাংলায়। পারিশ্রমিক পৌঁছচ্ছে না লেখক-প্রকাশক কারও কাছেই। এতেই বড়সড় ক্ষতি হচ্ছে বই ব্যবসায়। এইভাবেই বাংলাদেশে চলছে বইয়ের জালিয়াতি ব্যবসা। ঢাকার ‘নীলক্ষেত’। মূলত এই এলাকা থেকেই অবৈধভাবে চলছে বই কেনা বেচা। এই অভিযোগ নতুন নয়, এর আগেও বহুবার এই অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এবার এর বিরুদ্ধে পথে নামছে কলকাতার বই ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ফর লিটারেচর অ্যান্ড কালচার’ (Book Piracy)।
কীভাবে চলছে বেইআইনি কারবার?
এই সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ফর লিটারেচর অ্যান্ড কালচার’-এর সদস্যদের মধ্যে অনেকেই দাবি করছেন, কোনও রকম কপিরাইটের তোয়াক্কা না করেই ঢাকার নীলক্ষেতের বাজারে বেআইনিভাবে দেদার বই বিক্রি চলছে। এমনকি পিডিএফ সংগ্রহ করে বই ছাপানোর অভিযোগ উঠছে নীলক্ষেতের বাজারের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ফলে একজন লেখক ও প্রকাশক বই বৈধভাবে প্রকাশ করতে যে সময় ও অর্থ ব্যয় করেন তার চেয়ে অনেক কম দামে বইগুলি সংস্করণ বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে (Book Piracy)।
Book Piracy: বৈধ-অবৈধর অসম প্রতিযোগিতা
বেআইনিভাবে বইগুলির সংস্করণ করার কারবারিদের লাভ কতটা? কলকাতার বই ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, একটি বৈধ সংস্করণ বইয়ের দাম একজন পাঠকের কাছে অনেক বেশি মনে হতে পারে। তবে সেখানে অননুমোদিত কপি অনেক কম দামে অধিক বিক্রি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বৈধ প্রকাশকের সঙ্গে বইয়ের বাজারে একটা অসম প্রতিযোগিতা চলছে।
পাইরেটেড বইয়ের ব্যবসায় কতটা ক্ষতি করছে?
এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪-এর একটি সমীক্ষায় পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ঢাকার নীলক্ষেতে বছরে অন্তত চার লক্ষ পাইরেটেড বই বিক্রি হয়। এর পিছনে বড় কোনও দুর্নীতি চক্র লুকিয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রায় ৫০০ ধরনের কপি বই এবং বেশকিছু বইয়ের ২০ হাজার কপি পর্যন্ত ছাপার কথা বলা হয়েছিল।
বই ব্যবসায়ীদের কী অভিযোগ?
‘অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ফর লিটারেচর অ্যান্ড কালচার’-এর সদস্যদের অভিযোগ, বাংলাদেশের বিপুল বই নানা ভাবে বিভিন্ন বাজার ঘুরে কলকাতায় এসে পৌঁছচ্ছে। ভারত–বিদ্বেষী এমন বেশকিছু বইও ঘুরপথে কলকাতায় এসে পৌঁছচ্ছে। সংগঠনের বক্তব্য, ওই বইগুলিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকতেই পারে। তবে, দেশবিরোধী লেখা, বই বিক্রি করে এই দেশ থেকে অর্থ উপার্জন করা যাবে না। এবার সেই বইগুলিই ভারতে যাতে বিক্রি না হতে পারে সেটাই এখন সংগঠনের মূল লক্ষ্য।








