কিছুদিন আগেই খোলা বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে এবার আবার দাম বাড়ার আশঙ্কা। পোল্ট্রির খাবারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় আগামী দিনে ডিমের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা। শুধু মুরগির ডিম নয়, হাঁসের ডিমের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে ফের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Egg Price Hike: কমেছিল দাম, ফের বাড়ার ইঙ্গিত
কিছুদিন আগেও মুরগির ডিমের দাম প্রতি পিস ৭.৫০ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে বাজারে দাম কিছুটা কমে প্রায় ৭ টাকায় নামে। হাঁসের ডিমের দামও একসময় ১৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সম্প্রতি তা কমে ১২ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে এসেছে। কিন্তু পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ায় এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। বাজারে ডিমের দামে যে লাগাতার নামা চলছে তাতে এই আশঙ্কায় করছেন অনেকে।
২০২৫ সালের মার্চে ডিমের দাম ছিল প্রায় ৫.৮০ টাকা প্রতি পিস। চলতি বছরের এপ্রিল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬.৪০ টাকায়। পরবর্তী সময়ে দাম ৭ টাকা ছাড়িয়ে যায়। খুচরো বাজারে কোথাও কোথাও প্রতি ডিমের দাম ৮.৫০ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এবার আবারও সেই মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত।
পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়াই কি কারণ?
ডিমের দাম বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি। বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা পোল্ট্রি খাদ্যের দাম প্রায় ২,৩০০ টাকা। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই বস্তাপিছু প্রায় ৫০০ টাকা বেড়েছে দাম।
পোল্ট্রি খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সয়াবিন কেক এবং ভাঙা চালের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বস্তা ভাঙা চালের দাম ১,১০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১,৩৫০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে সয়াবিন কেকের দাম কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকায় পৌঁছেছে।এরই সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোল্ট্রি খামারগুলিতে। খাবারের খরচ বাড়ায় প্রতিটি মুরগির পিছনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সেই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে শেষ পর্যন্ত ডিমের দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটতে হচ্ছে খামারমালিকদের।
চিনির দাম বাড়ায় দায়ী ইথানল? নাকি নেপথ্যে আরও বড় কারণ, রইল বিস্তারিত
পোল্ট্রি শিল্পেও চাপ বাড়াচ্ছে সেই ইথানল
পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধির পিছনে আরও একটি কারণ হলো ইথানলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা। ভাবছেন ইথানল এর সঙ্গে পোল্ট্রির কী সম্পর্ক? আসলে মুরগির খাদ্যের একটি বড় অংশই ভুট্টা। আর সম্প্রতি দেশে পেট্রোলের সঙ্গে মেশানোর জন্য ইথানল উৎপাদনে ভুট্টার ব্যবহার বাড়ায় ওই খাদ্যশস্যটির উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে। ইথানল কারখানায় বিপুল পরিমাণ ভুট্টা চলে যাওয়ায় পোল্ট্রি শিল্পের জন্য সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং বাজারে দাম বাড়ছে। এই কারণে পোল্ট্রি বা খামারের মালিকেরা আগের মতো সহজে এবং কম দামে এই কাঁচামাল পাচ্ছেন না। ফলে খাদ্য তৈরির মোট খরচ আরও বাড়ছে। (Egg Price Hike)
এই আবহে পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের মতে, খাদ্যের দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে ছোট খামারগুলির উপর চাপ আরও বাড়বে। ইতিমধ্যেই উৎপাদন খরচ সামলাতে না পেরে কিছু ছোট খামার সমস্যায় পড়েছে। এর প্রভাব বাজারে ডিমের সরবরাহের উপরও পড়তে পারে।
অর্থাৎ, কয়েকদিনের জন্য ডিমের দাম কমলেও ফের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভুট্টা, ভাঙা চাল ও সয়াবিন কেকের মতো পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামালের দাম কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তার উপরই আগামী দিনে ডিমের বাজার অনেকটাই নির্ভর করবে।













1 thought on “পোল্ট্রি খরচেও থাবা ইথানলের? ফের বাড়তে পারে ডিমের দাম”