দিল্লির বুকে বসেই চলত তথ্য আদান-প্রদান। ISI গুপ্তচর সন্দেহে দম্পতি। ধৃতের নাম সাহিল ও তার স্ত্রী সমিরা। ভারতের সিম কার্ড দুবাই হয়ে ঘুরপথে পাকিস্তানে পাচার করত এই দম্পতি। আর সেই সিম কার্ডই পৌঁছে যেত ISI সদস্যদের কাছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৪ সাল থেকে ISI-এর হয়ে কাজ করছে তারা (ISI)।
ISI: ভারতের সিম দুবাই থেকে পাকিস্তানে?
পুলিশ জানিয়েছে, সাহিল ও তার স্ত্রী সমীরা পাকিস্তানের ISI সদস্যদের গোপন তথ্য পাচার করত। দিল্লির স্পেশাল সেল এই চক্রের হদিস পেয়েছে। দিল্লি থেকে করাচি, ইসলমাবাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এই চক্র। ২০২৪ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৮টি সিম কার্ড এই দম্পতির হাত ধরে ISI-এর হ্যান্ডলারদের হাতে যায়। এর জন্য এই দম্পতি ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে জানা যায়। মূলত এই সিমগুলি বিভিন্ন নামের অ্যাকাউন্টে হোয়াটসঅ্যাপ খোলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এইগুলি ব্যবহার করে ভারত থেকে গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করে তারা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে এই দম্পতি তথ্য পাচারের এই কাজ করতে শুরু করে। ২০২২ সালে বিয়ের আগে সাহিলের সঙ্গে সামিরার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে এই দম্পতির সঙ্গে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা কর্মীর পরিচয় হয়। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা কর্মী আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ওই দম্পতিকে এই কাজ করতে রাজি করায় (ISI)।
কারা এই সাহিল ও সমীরা?
২০০১ সালে সাহিলের জন্ম। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (ইগনু) থেকে বিএ পাশ করে। পুলিশ জানিয়েছে, সাহিল একজন আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করছিল এবং এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা তার ছিল। এর পর ২০২৫ সালের জুন মাসে সে চাকরি ছেড়ে দেয়।
২০০৫ সালে সামিরার জন্ম। কেশব পুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে দূরশিক্ষার মাধ্যমে স্নাতক হয়। গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল চাঁদ বিবি ক্যাম্প থেকে সাহিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, সন্ত্রাসী সংগঠন এবং তাদের কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড’ কর্মী ও ‘স্লিপার সেল’-কে লজিস্টিক সহায়তা করা হচ্ছে। এই খবর দিল্লি পুলিশের ‘স্পেশাল সেল’-এর কাছে তথ্য আসার পর তদন্ত শুরু হয়। সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ২টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখান থেকে মিলেছে বহু তথ্য।












1 thought on “ISI গুপ্তচর সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার দম্পতি, কীভাবে হতো তথ্য পাচার?”
Comments are closed.