উদ্ধার কাজে কোনও বিদেশি সাহায্য নেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়েছিল কাঠমান্ডু। কিন্তু ভয়াবহ হড়পাবানে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল নেপাল সরকারের। বিদেশি উদ্ধারকারী দলের জন্য দরজা খুলে দিল কাঠমান্ডু। গত ২৬ অগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি-ত্রিশূলী নদীতে আসা হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষতি হয়। নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সাহায্যের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাহায্যের অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার।
Nepal Flood: কেন সিদ্ধান্ত বদল করল কাঠমান্ডু?
প্রথমে নেপালের দাবি ছিল, সে দেশের সেনা ও পুলিশই উদ্ধারকাজ সামলানোর মতো যথেষ্ট সক্ষম। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সময় বহু বিদেশি উদ্ধারকারী দল আসায় তাদের সামলানো ও পরিকাঠামোগত নানা সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার নিজেরাই পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিল নেপাল। তবে সেই চেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। বিভিন্ন দেশের থেকে বহু লোকজন তাদের নিখোঁজ আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ নেওয়ায় এবং উদ্ধারকার যে অনেকটা সময় লাগায় এবার বিদেশি সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখল নেপাল।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের মূল্যায়নের পর একটি কমিটি বিশেষজ্ঞ সাহায্যের অনুমোদন দেয়। তবে ইচ্ছেমতো বিদেশি উদ্ধারকারী দল নেপালে ঢুকতে পারবে না। কোন ক্ষেত্রে সাহায্য প্রয়োজন, তা নেপাল সরকারই ঠিক করবে। সেই অনুযায়ী বিদেশি সাহায্য পাঠাতে পারবে দেশগুলি।
সুড়ঙ্গ ও হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পে বিশেষ নজর
বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মূলত সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজে লাগানো হবে। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে এই সাহায্য প্রয়োজন। পাশাপাশি মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক কাজেও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা সাহায্য করবেন।ভারত ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারের পাশাপাশি চিকিৎসা সাহায্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরাতে বেইলি ব্রিজ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে নেপালে তাঁবু, কম্বল ও ওষুধ-সহ ত্রাণসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। (Nepal Flood)
বন্যা বিপর্যস্ত নেপালে নিখোঁজ ৩২০ জন ভারতীয়, নিরাপদে ৪০০ জন, জানাল বিদেশমন্ত্রক
ভয়াবহ ধস-বন্যায় বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যাচিনকেও উদ্ধারকার্যে সহায়তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদ পাঠাতে পারবে। চিন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বরফ, কাদা ও পাথর নিয়ে ধস নামাতেই এই বিপর্যয় ঘটে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তার প্রভাব পড়ে। রাসুওয়া ও নুয়াকোট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯। শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আমেরিকা, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের বহু নাগরিকও এখনও নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে বিদেশী সাহায্য নিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ এবং নিখোঁজদের খোঁজ চালাতে চাইছে নেপাল। (Nepal Flood)












1 thought on “অবশেষ বিদেশি সাহায্যের দরজা খুলল নেপাল, উদ্ধারকাজে ভারত-চিনের বিশেষ দল”