গোটা দেশে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের ডিসপেনসিং নজেলে ইথানলের সঠিক পরিমাণ ও E20 পেট্রোলকে চিহ্নিতকরণে বাধ্যতামূলক করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো জনস্বার্থ মামলা। আগামী ৩১ অগস্ট এই মামলার শুনানি। E20-নিয়ে দেশ জুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই আবেদন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী নামে এক ব্যক্তি এই মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী, বিচারপতি এম এম সুন্দেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই বিষয়টির শুনানি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে (E20 petrol)।
E20 petrol: মূল দাবি কী?
বাধ্যতামূলক লেবেলিং: পেট্রোল পাম্পের প্রতিটি ফুয়েল নজেলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে যে ওই পেট্রোলে ঠিক কত শতাংশ ইথানল মেশানো রয়েছে।
ইনভয়েসে উল্লেখ: জ্বালানি কেনার পর গ্রাহককে যে বিল বা ইনভয়েস দেওয়া হয়, সেখানেও ইথানলের সঠিক পরিমাণ বা শতাংশ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
সার্চেবল ডেটাবেস: গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা, মডেল, ইঞ্জিনের ধরন অনুযায়ী কোন গাড়িটি কোন ধরনের ইথানল মিশ্রণের উপযোগী, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। ফলে সহজে বুঝতে একটি সরকারি অনলাইন ডেটাবেস বা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করার অনুরোধ।
বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন: কেন্দ্রীয় সরকারের এই ২০% ইথানল মিশ্রণ (E20) কর্মসূচির ফলে যানবাহনের পারফরম্যান্স, ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, মাইলেজ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, ওয়ারেন্টি এবং গাড়ি বিমার (insurance) ওপর কী বাস্তব প্রভাব পড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।
পুরোনো গাড়ির সুরক্ষা ও বিকল্পের ব্যবস্থা: ২০২৩ সালের আগের তৈরি অনেক গাড়ি উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির উপযোগী নয়। তাই এই ধরনের অপ্রচলিত বা ‘Legacy’ গাড়ির সুরক্ষায় একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা এবং সম্ভব হলে কম-ইথানল বা ইথানল-মুক্ত পেট্রোল সহজলভ্য করার দাবি তোলা হয়েছে।
আবেদনকারী স্পষ্ট করেছেন যে তারা কেন্দ্রের পরিবেশবান্ধব বা অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর এই ইথানল ব্লেন্ডিং পলিসির (EBP) বিরোধী নন, তবে সাধারণ গ্রাহকদের অজান্তে যাতে তাদের গাড়ির ক্ষতি বা কোনো আইনি জটিলতা (যেমন ওয়ারেন্টি বা বিমা বাতিল হওয়া) না হয়, তার জন্য এই স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি।










