এক সময় ছিল ব্যক্তিগত শিকারের এলাকা। আজ সেই জমিই হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির নিরাপদ ঠিকানা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের চেসাপিক বে-র কাছে তৈরি হয়েছে Martin National Wildlife Refuge। ১৯৫৪ সালে বিমান নির্মাণের পথিকৃৎ গ্লেন এল. মার্টিন ২,৫৬৯ একর জমি দান করেছিলেন। সাত দশকের বেশি সময়ে সেই অভয়ারণ্যের আয়তন বেড়ে হয়েছে ৪,৫৪৮ একর। (Martin National Wildlife Refuge)
১৯৫৪ সালে শুরু
মার্টিন ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজের বড় অংশ রয়েছে স্মিথ আইল্যান্ডের উত্তর দিকে। মেরিল্যান্ডের ক্রিসফিল্ড শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল পশ্চিমে এই দ্বীপ। দক্ষিণে চেসাপিক বে-র আরও দূরে রয়েছে ওয়াটস আইল্যান্ড। (Martin National Wildlife Refuge)
১৯৫৪ সালে গ্লেন এল. মার্টিনের দান করা ২,৫৬৯ একর জমি দিয়েই এই অভয়ারণ্যের পথচলা শুরু। পরে আরও জমি কেনা ও দানের ফলে এর আয়তন বেড়েছে।
পরিযায়ী পাখির নিরাপদ ঠিকানা
জোয়ার-ভাটার জলাভূমি, খাঁড়ি, ছোট উপসাগর, গাছপালায় ঢাকা উঁচু জমি এবং অগভীর জল—সব মিলিয়ে পাখিদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে। শীতকালে হাজার হাজার জলচর পাখি এই এলাকায় আশ্রয় নেয়।
ব্ল্যাক ডাক, পিনটেল, মার্গ্যানসার, লং-টেইলড ডাক, স্কটার, বাফেলহেড, কানাডা গুজ এবং টুন্ড্রা সোয়ান দেখা যায় এখানে। বসন্ত ও গ্রীষ্মে ব্ল্যাক ডাক, ম্যালার্ড, গ্যাডওয়াল এবং গ্রিন-উইংড টিল বাসা বাঁধে। (Martin National Wildlife Refuge)
শুধু স্থানীয় পাখি নয়
অভয়ারণ্যের গুরুত্ব শুধু পরিযায়ী পাখিতেই সীমাবদ্ধ নয়। হেরন, এগরেট এবং গ্লসি আইবিসের বড় বাসা বাঁধার এলাকা রয়েছে এখানে। মেরিল্যান্ডের চেসাপিক বে অংশে ব্রাউন পেলিক্যানের সবচেয়ে বড় কলোনিও এই অভয়ারণ্যে রয়েছে।
লাল শিয়াল, মাস্কর্যাট, মিঙ্ক, ওটার এবং ভোলও এখানে দেখা যায়। রয়েছে ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন ও বিভিন্ন জলসাপ। ১৯৮৪ সালে একটি বাসা বাঁধার টাওয়ার তৈরির পর থেকে এখানে পেরেগ্রিন ফ্যালকনও বাসা বাঁধছে। (Martin National Wildlife Refuge)
ইতিহাসও জড়িয়ে
এই এলাকার সঙ্গে মানুষের ইতিহাসও দীর্ঘ। ক্যাপ্টেন জন স্মিথ ১৬০৮ সালে স্মিথ আইল্যান্ড ঘুরে মানচিত্রে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে দ্বীপের কিছু অংশে গবাদি পশু পালন হত। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এখানকার মানুষ ঝিনুক ও কাঁকড়ার মতো চেসাপিক বে-র সম্পদের উপর নির্ভর করেছেন। (Martin National Wildlife Refuge)
আজ গ্লেন মার্টিনের সেই ২,৫৬৯ একরের দান ৪,৫৪৮ একরের সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। জলাভূমি, জলপথ ও সবুজ জমি মিলিয়ে এটি এখন চেসাপিক বে-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী আশ্রয়স্থল। (Martin National Wildlife Refuge)
আরও পড়ুন :- বন্যার তাণ্ডবের মাঝেই ‘লুট’, নগদভর্তি আলমারি ভেঙে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক ২৯











