মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। রবিবার বেঙ্গালুরুতে দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ইস্ট জোনের হয়ে হঠাৎই অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে হলো এই তরুণ ব্যাটারকে। আসলে অধিনায়ক ঈশান কিষাণ চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়াতেই তাঁর জায়গায় নেতৃত্বের ভার এসে পড়ে বৈভবের কাঁধে।
ঈশানের চোটেই খুলল ভাগ্য
এই ম্যাচের আগে বৈভবকে ইস্ট জোনের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। তবে এমন পরিস্থিতিতে তাকে যে এত তাড়াতাড়ি অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ১৯তম ওভারে উইকেটকিপিং করার সময় ঈশানের ডান কবজিতে জোরে বল লাগে। মাঠেই দলের ফিজিওরা তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। কিন্তু চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। পরে তাঁকে কবজিতে মোটা ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
এদিকে ঈশান মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নেন কুমার কুশাগ্রা। আর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পায় ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। এত কম বয়সে কোনও প্রথম শ্রেণির সিনিয়র দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে তার ক্রিকেটজীবনের অন্যতম বড় ঘটনা।
মক্কায় গিয়ে হেনস্থার মুখে অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত, কী এমন করলেন তিনি?
সহ-অধিনায়ক করা নিয়েও হয়েছিল আলোচনা
দলীপ ট্রফি শুরুর আগেই বৈভবকে সহ অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটমহলে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে ইস্ট জোনের নির্বাচকরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই দায়িত্ব তাৎক্ষণিক নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বৈভবকে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের দায়িত্বের সঙ্গে পরিচিত করানোর পরিকল্পনারই একটি অংশ।
২০২৪ সালের শুরুতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় বৈভবের। দলীপ ট্রফিতে এটি তার দ্বিতীয় ম্যাচ। আর সব মিলিয়ে মাত্র দশটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেই এত বড় দায়িত্ব পেল সে। তাই এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
CAPTAIN VAIBHAV SOORYAVANSHI 🔥
— Johns. (@CricCrazyJohns) August 30, 2026
– Vaibhav Sooryavanshi is currently leading the Easy Zone team in Duleep Trophy. pic.twitter.com/cGaFDpceMD
সামনে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, নেতৃত্বে ১৫ বছরের বৈভব
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ইস্ট জোনের দলে বৈভবের পাশে রয়েছেন বহু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দলের বোলিং আক্রমণে রয়েছেন মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। পাশাপাশি রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার অভিমন্যু ঈশ্বরণও। এমন একটি দলের দায়িত্ব ১৫ বছর বয়সে সামলানো যে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।
যদিও ঈশান কিষাণ কত দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর চোটের কারণে পাওয়া এই অপ্রত্যাশিত সুযোগ বৈভব সূর্যবংশীর ক্রিকেটজীবনে যে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল, তা বলাই যায়।











