কুণাল ঘোষের নিশানায় একসঙ্গে বিজেপি, কংগ্রেস এবং দলেরই একাংশ। বাংলাদেশে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর মাকে দেখতে না পারা থেকে শুরু করে বেলেঘাটার বেআইনি নির্মাণ, নন্দীগ্রামে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনা—একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। (Kunal Ghosh)
চিন্ময়কৃষ্ণকে নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা
বাংলাদেশে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর ছবি দেখে খারাপ লেগেছে বলে জানান কুণাল। তাঁর দাবি, প্যারোলে বেরিয়েও চিন্ময় তাঁর মাকে দেখতে পারেননি। পরে তাঁর মা মারা যান। বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগে বিজেপি বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে দাঁড়িয়ে চিন্ময়ের মুক্তির দাবি তুলেছিল। এখন সেই দাবিতে কেন্দ্রের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। (Kunal Ghosh)
বাগেশ্বর বাবা প্রসঙ্গে অবস্থান
বাঙালিদের নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদ করে কুণাল বলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়নি। তাঁর দাবি, এখন সুর বদলানোর চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে বাগেশ্বর বাবার গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন তিনি। নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্য করা অনন্ত মহারাজের গ্রেফতার না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেসের একাংশ বিজেপির হাত শক্ত করেছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তবে বাগেশ্বর বাবার গ্রেফতারের নিন্দা করবে তৃণমূল, জানান কুণাল।
বেআইনি নির্মাণে তদন্তের দাবি
বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নিয়েও সরব হন কুণাল। তাঁর দাবি, জলাজমি ও কৃষিজমি ভরাট করে নির্মাণ হয়েছে ৫৭ ও ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান। পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রয়োজনে CBI কে সাহায্য করার কথাও বলেন তিনি। কসবা, বড়বাজার, মেটিয়াবুরুজ এবং বাইপাস সংলগ্ন এলাকাতেও তদন্তের দাবি তোলেন। প্রাক্তন মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বিষয়টি নিয়ে জানাতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন। (Kunal Ghosh)
নন্দীগ্রাম নিয়ে ক্ষোভ
নন্দীগ্রামে দলের খারাপ ফলের জন্য কলকাতার নেতাদের দায়ী করেন কুণাল। তাঁর দাবি, তাঁকে না জানিয়েই দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। আইপ্যাক-সহ পরে যাঁদের পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা বিষয়টি জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে কিছু কথা এখনই বলবেন না, সময় এলে জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
প্রতীক ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজ
প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তকে বিচারাধীন বিষয় বলে মন্তব্য করেন কুণাল। তিনি জানান, কালিঘাট শিবির ভোটে লড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মুক্তির সূর্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনাকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা করেন কুণাল। কলেজের রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। (Kunal Ghosh)












1 thought on “চিন্ময়কৃষ্ণ থেকে নন্দীগ্রাম, বেআইনি নির্মাণ—একাধিক ইস্যুতে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ”