জনপ্রতিনিধি তো অনেকেই হন, কিন্তু ক্ষমতার আসনে বসার পর আসলে জনগণের বাস্তবটা বোঝেন ক’জন? এবার সেই বাস্তবটা বুঝতেই একদিনের জন্য নিজের পরিচয়, নিরাপত্তা আর বিলাসী জীবন সবকিছু সরিয়ে রেখে ভিক্ষুকের জীবন কাটালেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক পরাগ শাহ। মুম্বইয়ের ঘাটকোপার ইস্টের এই বিধায়ক ভিক্ষুকের বেশে রাস্তায় ঘুরলেন, ভিক্ষা চাইলেন, ট্রেনে উঠলেন, রাস্তার ধারে বসলেন, এমনকি ভিক্ষা করে পাওয়া খাবারও খেলেন। তবে কেন?
আসলে তাঁর এই অভিনব অভিজ্ঞতার পিছনে ছিলেন এক জৈন ধর্মগুরু। সাধারণ দরিদ্র মানুষের জীবনটা কাছের থেকে বোঝার জন্যই তাঁকে এমন অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
MLA Becomes Beggar: বিধায়ক থেকে ভিক্ষুক, কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?
অন্য যেকোনও দিন সাধারণত শাহকে ঘিরে থাকে নিরাপত্তারক্ষী, বিলাসবহুল গাড়ি এবং দামি পোশাক। কিন্তু ওই দিন সেসব কিছুই ছিল না। মুম্বইয়ের ব্যস্ত রাস্তায় একেবারে সাধারণ ভিক্ষুকের মতো ঘুরে মানুষের কাছে সাহায্য চান তিনি। ভিড় ট্রেনে ওঠেন, পথচলতি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাছে খাবার বা টাকা চান।
এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের আচরণ সম্পর্কে নতুন করে ভাবিয়েছে। শাহ বলেন, ‘‘আপনি যখন বিধায়ক বা ক্ষমতাবান মানুষ, তখন অনেকে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেই একই মানুষের কাছে আপনি যখন সাহায্য চাইতে যান, তখন তাঁরাই আপনার থেকে অনেক সরে যান। এটাই জীবনের বাস্তবতা।’’
২০ টাকা দিলেন এক ব্যক্তি, বিনা পয়সায় মিলল খাবারও
ভিক্ষা করতে গিয়ে কখনও সাহায্য পেয়েছেন শাহ, আবার কখনও পাননি। এক ব্যক্তি তাঁকে ২০ টাকা দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘যাও বাবা, খাবার খেয়ে নাও।’’ তবে সবচেয়ে বেশি তাঁকে ছুঁয়ে যায় এক সিঙ্গারা বিক্রেতার ব্যবহার।
শাহ জানান, তাঁর কাছে টাকা নেই বলার পরও ওই বিক্রেতা তাঁকে একটি সিঙ্গারা বিনা পয়সায় দিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, হাসিমুখেই খাবারটি দেন তিনি। শাহের কথায়, ওই ব্যক্তি নিজেই খুব দরিদ্র এক হকার। তবু সাহায্য করার সময় তাঁর মুখে বিরক্তির ছাপ ছিল না। এই ছোট্ট ঘটনাই শাহকে মানুষের চরিত্রের অন্য একটি দিক দেখিয়েছে। আসলে অপরকে সাহায্য করতে বেশি টাকা লাগে না, লাগে মানসিকতা।
বেতনভোগীদের জন্য সরকারের বড় উপহার, ২৫ হাজার পর্যন্ত বাড়ল PF-এ ঢোকার সীমা
আসল জীবনে কোটিপতিই একদিনের ভিক্ষুক
পরাগ শাহের এই অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর নিজের বিপুল সম্পত্তির কারণে। ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩,৩৮৩ কোটি টাকা। এর ফলে তিনি মহারাষ্ট্রের অন্যতম ধনী বিধায়ক হিসেবে পরিচিত। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। এর আগে বৃহমুম্মই পুরনিগমের (BMC) কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
ভিক্ষুকের বেশে একদিন কাটানোর পর অবশ্য নিজের পরিচয়ে ফিরে আসেন শাহ। মেকআপ তুলে তিনি ফের সেই জায়গাগুলিতে যান, যেখানে কিছুক্ষণ আগেই ভিক্ষা চেয়েছিলেন। একই মানুষদের সঙ্গে আবার কথা বলেন এবং দেখেন, তাঁর পরিচয় জানার পরে তাঁদের আচরণ কীভাবে বদলে যায়।
পরে নিজের জৈন গুরুর সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন শাহ। তাঁর দাবি, এই একদিনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সামাজিক কল্যাণ, আবাসন এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা নিয়ে নীতি-আলোচনায় তাঁকে আরও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ভাবতে সাহায্য করবে।











