রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

সর্বস্ব হারিয়েছিলেন বাবা, ছিল না বাড়িও, কীভাবে ২৫০০ কোটির মালিক হলেন হৃতিক রোশন?

Published on: September 27, 2026
Hrithik Roshan Success Story
---Advertisement---

এক সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকাও ছিল না পরিবারের কাছে। বাবার চোখে জল দেখেছিলেন ছোট্ট হৃতিক রোশন। সেই পরিবারই আজ ২৫০০ কোটির মালিক। বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হৃতিক রোশনের জীবনের এই উত্থানের কাহিনি যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, ভারতের ধনীতম অভিনেতাদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হৃতিক। তাঁর আগে রয়েছেন শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন এবং সলমন খান। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যবসা এবং HRX ব্র্যান্ড থেকেও সম্পদ গড়েছেন তিনি। কিন্তু আজকের এই বিপুল সম্পদের পিছনে রয়েছে তাঁর বাবা রাকেশ রোশনের দীর্ঘ লড়াই, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং একাধিক কঠিন সিদ্ধান্তের গল্প।

Hrithik Roshan Success Story: ‘কয়লা’ ছবির পর সর্বস্ব হারিয়েছিলেন রাকেশ

১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ছবি ‘কয়লা’। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এই ছবির ব্যর্থতার পর বড়সড় আর্থিক সমস্যায় পড়েন পরিচালক তথা প্রযোজক রাকেশ রোশন। ছবির ক্ষতির ধাক্কায় কার্যত সর্বস্ব হারাতে হয় তাঁকে।

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছিলেন হৃতিক। তিনি জানান, বাবাকে জীবনে প্রথমবার চোখের জল ফেলতে দেখেছিলেন সেই সময়। হৃতিকের কথায়, একদিন সকালে তিনি দেখেন, তাঁর বাবা জানাচ্ছেন, যা কিছু উপার্জন করেছিলেন, সবই হারিয়ে ফেলেছেন। চারদিক থেকে সমস্যা আসছিল। বাবার সেই অসহায় অবস্থা ছোট্ট হৃতিকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

বাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকাও ছিল না, মেঝেতে শুয়ে কাটত দিন

‘কয়লা’র ব্যর্থতাই রোশন পরিবারের আর্থিক সমস্যার একমাত্র কারণ ছিল না। অভিনেতা হিসেবে কেরিয়ারের প্রথম দিকে খুব একটা সাফল্য পাননি রাকেশও। ২০০৬ সালে সিমি গারেওয়ালের একটি সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানান, এমন সময়ও এসেছিল যখন তাঁদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না বাবার। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে, হৃতিক ও তাঁর বোনকে নিয়ে নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে চলে যান মা পিঙ্কি রোশন। অন্যদিকে, রাকেশ থাকতেন তাঁর মায়ের কাছে। (Hrithik Roshan Success Story)

পরে অবশ্য কিছুটা আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরে। নতুন বাড়ি কেনার মতো টাকা জোগাড় করেন রাকেশ। তবে সেই বাড়ির অবস্থাও ছিল অত্যন্ত সাধারণ। হৃতিকের কথায়, প্রথমে বাড়িতে শুধু দেওয়াল আর মেঝে ছিল। বিছানার বদলে মাদুর পেতে ঘুমোতেন তাঁরা। ধীরে ধীরে বাড়িতে আসতে শুরু করে আসবাবপত্র।

“আমি গুলি করে দিতাম,” কাকে নিয়ে এমন দাবি করলেন অমিতাভ?

‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ বদলে দেয় রোশন পরিবারের ভাগ্য

বাবার আর্থিক লড়াইয়ের মধ্যেই আসে হৃতিকের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। ছেলেকে বলিউডের নায়ক হিসেবে লঞ্চ করার সিদ্ধান্ত নেন রাকেশ রোশন। ছবির নাম ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’। কিন্তু ছবিটি তৈরি করতে গিয়েও বড়সড় আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয় তাঁকে। ছবিটি মুক্তির আগে ছবির বাজেট প্রায় ৩ কোটি টাকা বেড়ে যায়। সেই টাকা জোগাড় করতে নিজের বাড়ি ও গাড়ি বন্ধক রাখতে হয় রাকেশকে।

২০০০ সালে মুক্তি পায় ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’। রাকেশ রোশন পরিচালিত ও প্রযোজিত এই ছবিতে হৃতিকের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আমিশা প্যাটেল। মুক্তির পরই বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায় ছবিটি। রাতারাতি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন হৃতিক।

ছবির সাফল্যে রাকেশের নেওয়া আর্থিক ঝুঁকিও সার্থক হয়। যে পরিবার এক সময় বাড়ি ভাড়া দিতে হিমশিম খেয়েছিল, সেই পরিবারের ছেলেই আজ ২৫০০ কোটি টাকার মালিক।

হৃতিকের এই বিপুল সম্পদের পিছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং HRX ব্র্যান্ড। তবে সাফল্যের এই গল্পে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর বাবা রাকেশ রোশনেরই।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now