ভারতে স্মার্টফোন কেনা এখন আরও খরচসাপেক্ষ। চলতি বছরে গত কয়েক মাসে স্মার্টফোনের দাম বেড়েছে। অ্যাপল, স্যামসাং -এর মতো স্মার্টফোনগুলিরও দাম আরও চড়া হচ্ছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০,০০০ টাকার নিচের বাজেট স্মার্টফোনগুলির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই বিভাগে ফোন সরবরাহ বা শিপমেন্ট আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ মেমোরির দাম বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে ডায়নামিক র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (DRAM)-এর দাম ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে NAND ফ্ল্যাশ মেমোরির দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ (Smartphone price hike)।
Smartphone price hike: মেমোরির দাম বৃদ্ধির প্রভাব
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভারতে স্মার্টফোনের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মূল কারণ হলো মেমোরির দাম লাফিয়ে বেড়ে যাওয়া। AI ডেটা সেন্টারের চাহিদা ও অন্যান্য কারণে DRAM ও NAND মেমোরির খরচ বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়া—মূলত এসবই কারণ। ফলে একটি এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোন তৈরির খরচ ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। কোম্পানিগুলি এই বাড়তি খরচ ক্রেতাদের উপরেই চাপাচ্ছে। যার জেরে বাড়ছে স্মার্টফোনের দাম (Smartphone price hike)।
এর ফলে ১০,০০০ টাকার নিচের বাজেট স্মার্টফোনগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এগুলির সরবরাহ বা শিপমেন্ট আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কমেছে। ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা দামের ফোনের ক্ষেত্রেও সরবরাহ ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দাম বাড়ার কারণে অনেকেই নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে আসছেন। কম অফার, কম লঞ্চ এবং বেশি দাম—এই তিন কারণেই দোকানে ক্রেতা কমছে। সব মিলিয়ে, স্মার্টফোন বাজারে এখন চাপের পরিস্থিতি।
৮ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে OnePlus
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে স্মার্টফোনের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার ১৬ শতাংশ হলেও ওয়ানপ্লাস (OnePlus) তাদের স্মার্টফোনের দাম গড়ে ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। কোম্পানিটির ক্ষেত্রে একক মডেলের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১২ শতাংশ। ওয়ানপ্লাসের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার কম হওয়ার পেছনে একটি কারণ দেখছে কাউন্টারপয়েন্ট। প্রথমত, মেমরি (DRAM এবং NAND) চিপের দাম তুলনামূলকভাবে যখন কম ছিল, ওয়ানপ্লাস তখনই তাদের স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয় উপাদান বা পার্টস আগেভাগে কিনে সুরক্ষিত করে রেখেছিল। এর ফলে পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে চিপের দাম কয়েক গুণ বাড়লেও ওয়ানপ্লাসের উৎপাদন খরচে তার বড় প্রভাব পড়েনি।












