অনেকের বাড়িতেই দেখা যায়, দেওয়াল ঘড়ির পিছনে অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল লাগানো। কিন্তু কেন? এর পিছনেও কি রয়েছে কোনও বিজ্ঞানসম্মত কারণ? নাকি কোনও কুসংষ্কার? এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘রেডিয়েন্ট ব্যারিয়ার’ বা বিকিরণ তাপ-প্রতিরোধক (wall clock)। কী এই পদ্ধতি?
wall clock: ‘রেডিয়েন্ট ব্যারিয়ার’ কী?
সাধারণ ইট কিংবা পাথরের দেওয়াল তাপ শোষণ করে তা ঘরের বাইরে বা ভেতরে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু দেওয়ালে ফয়েল ব্যবহার করলে তা ঘরের ভেতরের রেডিয়েন্ট হিট (Radiant heat)-কে শোষণ করার পরিবর্তে পুনরায় ঘরের ভেতরেই প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়। ফলে দেওয়ালের তাপ সরাসরি ঘড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। দেওয়াল থেকে আসা তাপ ঘড়ির প্লাস্টিকের বডি ভেদ করে ভেতরে ঢুকলে ভেতরের সূক্ষ্ম গিয়ার এবং ইলেকট্রনিক সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে, ব্যাটারির আয়ু কমে যায় এবং ব্যাটারি লিক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফয়েল পেপার তাপ আটকে দিয়ে ঘড়ির ভেতরের অংশকে ঠাণ্ডা ও সুরক্ষিত রাখে (wall clock)।
অনেক সময় দেওয়ালের স্যাঁতসেঁতে ভাব বা আর্দ্রতা (Dampness) ঘড়ির ভেতরের যন্ত্রাংশকে নষ্ট করে দেয়। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এই আর্দ্রতাকে ঘড়ির ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। ফলে দেওয়াল স্যাঁতস্যাঁতে হলে ঘড়ি দেওয়ালে ঝোলানোর সময়ও এই অ্যালুমিনিয়ামের পাতলা ধাতব আস্তরণ ঘড়ির পিছনের অংশে লাগাতে পারেন। এতে ঘড়ি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
কোনও যন্ত্রপাতি ছাড়াই ঘড়ির পিছনে এটি কীভাবে লাগাবেন?
কোনও দামি ডিভাইস, কোনও যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই নামমাত্র খরচে ঘরে থাকা সাধারণ জিনিস দিয়ে ঘড়ির পিছনে এটি লাগিয়ে ফেলতে পারবেন। রান্নাঘরে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের টুকরো দিয়েই এটি করে ফেলা যায়। এর জন্য আলাদা করে খরচ করার কোনও প্রয়োজন নেই। কোনও স্ক্রু-ড্রাইভার, ড্রিল মেশিন বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। শুধু কাঁচি দিয়ে ঘড়ির মাপ অনুযায়ী ফয়েলটি কেটে পেছনে বসিয়ে দিলেই কাজ শেষ। একবার ফয়েলটি ঠিকমতো বসিয়ে দিলে বছরের পর বছর এটি কোনও রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) ছাড়াই তার কাজ করে যায়।













1 thought on “দেওয়াল ঘড়ির পিছনে অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল, কেন লাগানো হয় জানেন?”
Comments are closed.