নিমগাছের কথা বললেই শুধু তেতো পাতার কথা মনে পড়ে? কিন্তু জানেন কি বাড়ির উঠোন, রাস্তার ধারে কিংবা গ্রামের মাঠে দেখা এই পরিচিত গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশই কোনও না কোনও কাজে লাগে। কখনও নিমের ডাল হয়ে ওঠে দাঁতন, কখনও তার বীজ থেকে তৈরি হয় তেল। আবার তেল তৈরির পর পড়ে থাকা অংশও কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতীয় জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিমগাছ।
নিমের বৈজ্ঞানিক নাম Azadirachta indica। ভারতীয় উপমহাদেশই এই গাছের আদি বাসস্থান। কৃষিকাজ, ঘরোয়া ব্যবহার, প্রসাধনী, কাঠের কাজ এবং প্রথাগত চিকিৎসা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিমের ব্যবহার রয়েছে।
Uses of Neem: পোকামাকড় ঠেকাতে কাজে লাগে নিমপাতা
নিমপাতার ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বহুদিন ধরেই চাল-ডাল বা অন্যান্য শস্যের মধ্যে শুকনো নিমপাতা রাখা হয় পোকামাকড় দূরে রাখতে। পোশাক সংরক্ষণেও কোথাও কোথাও নিমপাতা ব্যবহার করা হয়। কৃষিকাজেও নিমপাতা, নিমের বীজের গুঁড়ো ও নিমের তেল ব্যবহার করা হয়।
নিমের বীজে থাকা ‘অ্যাজার্ডিঅ্যাক্টিন’ নামের একটি উপাদান পোকামাকড়ের খাবার খাওয়া, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলে। তাই নিমভিত্তিক কিছু উপাদান কৃষিতে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হয়।
বীজ থেকে তেল, আর তেলের পরেও কাজ
নিমের ফল পাকলে তার বীজ সংগ্রহ করে তেল তৈরি করা যায়। এই তেল দিয়ে সাবান, প্রসাধনী-সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। কৃষিতেও নিমের তেলের ব্যবহার রয়েছে।
তবে এখানেই বীজের কাজ শেষ নয়। তেল বের করার পর যে শক্ত অংশটি পড়ে থাকে, তাকে বলা হয় ‘নিম খোল’ বা নিম কেক। সেটি মাটিতে জৈব উপাদান হিসেবে দেওয়া যায় এবং কিছু মাটির পোকা নিয়ন্ত্রণেও কাজে লাগে। অর্থাৎ একই বীজ থেকে তেলও পাওয়া গেল, আবার অবশিষ্টাংশও কৃষকের কাজে লাগল।
ডাল থেকে দাঁতন, ফুলে মৌমাছির উপকার
প্লাস্টিকের টুথব্রাশ জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই নিমের সরু ডাল দাঁত পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা হতো। ডালের এক প্রান্ত চিবিয়ে নরম করে দাঁতন তৈরি করা হয়। নিম ডালকে দাঁতন হিসাবে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাও হয়েছে। তবে নিমের দাঁতন বা অন্য কোনও নিমজাত পণ্যকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ধরা ঠিক নয়। (Uses of Neem)
উৎসবের মরসুমে মিষ্টির ক্রেভিং? অজান্তেই লিভারের ক্ষতি করছেন না তো?
নিমের ছালও প্রথাগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে। ছোট সাদা ফুল বিভিন্ন খাবার ও প্রথাগত প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়। এই ফুল মৌমাছির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফুল থেকে তারা মধু তৈরির জন্য মধুরস সংগ্রহ করে।
নিম কাঠও ফেলনা নয়
নিম শুধু পাতা-বীজেই থেমে নেই। এর কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য কাঠের জিনিস তৈরি করা হয়। শুকনো ডালপালা ও কাঠ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে।
সব মিলিয়ে নিমগাছের বিশেষত্ব হলো, এর প্রায় কোনও অংশই সহজে ফেলনা হয়ে যায় না। পাতা থেকে বীজ, ডাল থেকে ফুল, ছাল থেকে কাঠ—প্রতিটি অংশেরই রয়েছে আলাদা ব্যবহার। একটি গাছ থেকে এত রকমের প্রয়োজন মেটানোর এই ক্ষমতাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিমকে ভারতীয় দৈনন্দিন জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।













1 thought on “ডাল থেকে দাঁতন, বীজ থেকে তেল, অবশিষ্টাংশেও কাজ; একটি নিমগাছের কত ব্যবহার জানেন?”
Comments are closed.