নতুন করে হিংসা ছড়ানোয় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মণিপুর। সোমবার সকালে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক এলাকায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে ৩ জন গ্রামবাসী নিহত হন। অন্যদিকে, আরও একটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ বছর বয়সি এক যুবকের। একই দিনে পর পর দু’টি হত্যাকাণ্ডে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে (manipur unrest)।
manipur unrest: গুলিবিদ্ধ ৩ গ্রামবাসী
ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক এলাকায় স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিং বলেন, কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন গ্রামবাসী। সেই সময় হঠাৎ গুলি চলে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত আরও তিনজন। নিহতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সি অরুবাম রনিল, যিনি রনিন নামেও পরিচিত, ৪৪ বছর বয়সি লাইরেনলাকপাম ইনওবি এবং ৩২ বছর বয়সি ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল। আহত তিনজনের নাম মেইসনম সোমেন্দ্র (৫৫), বনসন খিংদ্রাম (৪৫) এবং নাংগোম সুরজ (২২)। আহতদের ইম্ফলের রাজ মেডি সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে, ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের বাসভবনের সামনে নিহতদের দেহ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একাংশ নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। পরে দেহগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে ইম্ফল শহর ও আশপাশের এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে (manipur unrest)।
আরও একটি মৃত্যু
মণিপুরের মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান চলছিল। সেই সময় পাথর ও গুলি ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে ভিড়ের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে গুলির আঘাতে ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়। সোমবার রাজ মেডি সিটি হাসপাতালে আহতের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। অন্যদিকে,বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিং প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, হামলার স্থানটির কাছে থাকা ‘সিনাই ক্যাম্প’ নামে পরিচিত সাসপেনশন অফ অপারেশনস (SoO) শিবিরটি সরিয়ে ফেলতে হবে।











