দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড এক সময়ে দাপিয়ে বেরিয়েছেন অভিনয়ে। বিয়ের পর অভিনয় জগত ছেড়ে দূরে সরে গেছেন। এখন স্বামী-কন্যাসন্তান নিয়ে সংসার করছেন অভিনেত্রী অসিন তোট্টুমকল। অসিনের স্বামী মাইক্রোম্যাক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মা। ডিজিটাল দুনিয়া থেকে তাঁদের কন্যাসন্তানকে দূরে রেখে মানুষ করছেন এই দম্পতি। সম্প্রতি ‘মাইগভ ইন্ডিয়া’ (MyGov India)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাহুল শর্মা তাঁদের এই বিশেষ প্যারেন্টিং পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান (Asin)।
Asin: কৃতিত্ব স্ত্রী আসিনেরই
রাহুল শর্মা বলেন, “আসিনের সঙ্গে বিয়ে হওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক ঘটনা। আমার শক্তির উৎস। যেকোনও পরিস্থিতিতে, সেই আমাকে বলে, ‘চিন্তা কোরো না… শুধু এগিয়ে চলো।’ সে আমাকে এবং আমার আবেগকে বোঝে। সে আমার ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখে। জীবনে এমন মানুষ পাশে থাকলে পথচলা অনেক সহজ হয়ে যায়।”
তিনি (Asin) আরও বলেন, “জীবনসঙ্গী এমন হওয়া উচিত, যে আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। পিছনের দিকে টেনে ধরবে না। আসিন আমার ক্ষেত্রে ঠিক তেমনই একজন মানুষ। সে আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে ও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।”
রাহুল তাদের কন্যা আরিনের সম্পর্কে বলেন, “আমাদের মেয়ে চমৎকার। ওর বয়স এখন মাত্র সাত বছর, কিন্তু সে ইতিমধ্যেই কোরিয়ান, জাপানি, থাই ও চিনা ভাষাসহ প্রায় ১২টি ভাষা বুঝতে ও বলতে পারে। আমার পক্ষে দুটি ভাষাও ঠিকমতো বলা কঠিন। আমরা কেবল ইংরেজি আর হিন্দিতেই সীমাবদ্ধ।”
স্ক্রিন-মুক্ত প্যারেন্টিং
বাড়িতে অভিনেত্রী অসিন কীভাবে সবকিছু সামলান, সেই প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, “বাইরের লড়াইয়ের পাশাপাশি ঘরের ভেতরের লড়াইটাও তো সামলাতে হয়, তাই না? আমাদের সংসারে সেই দিকটা আসিনই সামলায়। ওর মতো মানুষ আমি আমার জীবনে আর দেখিনি।” রাহুল আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত আরিনকে কোনও ‘স্ক্রিন টাইম’ দিইনি—অর্থাৎ কোনও টেলিভিশন বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দিইনি। আমাদের বাড়িতে শুধু বই আর বই। সম্ভবত আরিনের স্কুলে যত বই আছে, তার চেয়ে বেশি বই আমাদের বাড়িতেই রয়েছে। ও এখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে, অথচ আমাদের কাছে অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইও আগে থেকেই আছে। আমি মাঝে মাঝে মজা করে বলি, ‘ওকে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষাতেও বসিয়ে দাও। তাতে আর কী এমন ক্ষতি হবে?’ এসবই আসিনের অবদান।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ব্যবসায়ী রাহুল শর্মাকে বিয়ে করার পর আসিন বলিউড এবং অভিনয় জগৎ থেকে পুরোপুরি বিদায় নেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে তাঁদের কন্যাসন্তান আরিনের জন্ম হয়। বর্তমানে এই ডিজিটাল যুগে যেখানে শিশুরা প্রতিনিয়ত ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে, সেখানে আসিন ও রাহুলের এই স্ক্রিন-মুক্ত প্যারেন্টিংয়ের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।












