মাঝ সমুদ্রে আচমকা হামলায় ডুবে গেল ইরানের যুদ্ধজাহাজ। শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় সলিলসমাধি ঘটল ইরানের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস দেনা’-র। বুধবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে অন্তত ৮৭ জন ইরানি নৌসেনার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। (Submarine Attack)
নৌসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আয়োজিত ‘মিলন ২০২৬’ নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়ে সসম্মানে দেশে ফিরছিল ইরানি রণতরি ‘দেনা’। বুধবার ভোররাতে শ্রীলঙ্কার অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থানার সময়ে মাঝসমুদ্রে অতর্কিতে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে সেটিকে লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়া হয়। এই নিঃশব্দ অভিযানকে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় জাহাজটি এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যায়। আমেরিকার জানিয়েছে এই টর্পেডো থেকে শেষবার হামলা চালানো হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। (Submarine Attack)
ইরানি ওই যুদ্ধজাহাজে মোট ১৮০ জন নাবিক ও নৌসেনা ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজে নামলেও ৮৭ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৩২ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সমুদ্রের ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বাকি নাবিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, যদিও প্রতিকূল আবহাওয়া ও গভীর স্রোতের কারণে নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। (Submarine Attack)
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলাকে একটি ‘টার্গেটেড মিশন’ বললেও, ঠিক কী কারণে মহড়া থেকে ফেরার পথে এমন চরম পদক্ষেপ করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ আবহে নতুন করে চিড় ধরবে, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকির সঙ্কেত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। (Submarine Attack)
নৌ-সামরিক ইতিহাসে ‘আইরিস দেনা’-র এই ডুবে যাওয়াকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিপর্যয় শুধুমাত্র একটি জাহাজডুবি নয়, বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌনীতি এবং বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত মহাসাগরে শান্তি বজায় রাখা এবং এই ধরনের অনভিপ্রেত সংঘাত রুখতে বিশ্ব শক্তিগুলো এখন কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার। (Submarine Attack)












