হরমুজ প্রণালীতে ছাড় পেল ভারত। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কথা বলার পরে দু’টি ভারতীয় জাহাজকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে ইরান। মুম্বই বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছেও গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজএ আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিকেও সেফ প্যাসেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। এ দিকে, ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়ায় আমেরিকা-ইজরায়েলের উপরে চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। রাশিয়া ও চিনের জাহাজকেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকা, ইজ়রায়েলের কোনও ট্যাঙ্কারকে (Iran reportedly give Hormuz Clearance To India) হরমুজ পার করতে দেওয়া হবে না। যে জাহাজটি পৌঁছেছে তাতে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল রয়েছে। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজ়ারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ক্রুড অয়েল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুলের রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
সূত্রের খবর, ভারতের দুটি জাহাজকে হরমুজ পারপারে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে ইরান। ভারতের দু’টি ট্যাঙ্কার পুষ্পক ও পরিমল ইতিমধ্যেই নির্বিঘ্নে হরমুজ পারাপার করছে বলে খবর। উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে ইরান। রাশিয়া ও চিনের জাহাজকে শুধুমাত্র ছাড় দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। আমেরিকার অনুমতির পর ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে। কিন্তু, যা পরিস্থিতি তাতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তেলের দাম ক্রমশ বাড়বে। একইসঙ্গে ভারতের তেলের ভান্ডারে টান পড়তেও বাধ্য। মঙ্গলবারই হরমুজ নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সূত্রের খবর, বৈঠকের পরই হরমুজে গ্রিন সিগন্যাল পেল ভারত। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারতীয় অয়েল ট্যাঙ্কারকে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা করবে ইরান। তাদের কোনওরকমভাবে আক্রমণ করা হবে না। এর পাশাপাশি ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকা, ইজ়রায়েলের কোনও ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যদি ওই দেশগুলি থেকে তেল নেওয়া হয়, তাহলে ভারতের তেলের ট্যাঙ্কারকে নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে মুম্বই শহরে। হোটেলের এক মালিক জানিয়েছিলেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আগামী দু’দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দাদার ও আন্ধেরির মতো জনপ্রিয় এলাকায় অনেক রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই মেনু ছোট করে ফেলেছে। অনেক জায়গায় দোকান খোলার সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, যতটা সম্ভব গ্যাস বাঁচিয়ে রাখা।
এদিকে বেঙ্গালুরু শহরেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১০ মার্চ থেকে শহরের বহু হোটেলের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহরের বিখ্যাত রেস্তোরাঁ বিদ্যার্থী ভবন–এর মালিক জানিয়েছেন, “মাত্র পাঁচটি গ্যাস সিলিন্ডার বাকি রয়েছে। এই গ্যাস সম্ভবত আর একদিনের বেশি চলবে না। গ্যাস বাঁচানোর জন্য ইতিমধ্যেই দুটি তাওয়া ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর গ্যাস না পেলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করতে হবে। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে চেন্নাই শহরেও। অনেক ডিস্ট্রিবিউটর বলছেন তাদের কাছে গ্যাসের মজুত নেই। ফলে বহু রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।













1 thought on “Iran reportedly give Hormuz Clearance To India: হরমুজে ভারতকে সবুজ সংকেত ইরানের, তবে কি আশার আলো?”