পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে নতুন মোড়! হামলার ঘটনা কে আগে জানত, তা নিয়ে কাদা ছোরাছুরি। ইরানের গ্যাসভান্ডারকে ঘিরে ইসরায়েলের হামলা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। (US Israel)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে কিছু জানত না। কিন্তু ইসরায়েলি মহলের একাংশ সেই দাবি কার্যত খারিজ করেছে।
বুধবার ইসরায়েল সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের (South Pars Gas Field) ইরানি অংশে হামলা চালায়। যা ইরানের জ্বালানি কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। তার জবাবে ইরান কাতারের রাস লাফানে (Ras Laffan) অবস্থিত এলএনজি স্থাপনার একটি অংশে পাল্টা আঘাত হানে।(US Israel)

তবে সামরিক উত্তেজনার সমান্তরালে কূটনৈতিক অস্বস্তিও দ্রুত প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি হোয়াইট হাউস।(US Israel)
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তিনি আরও দাবি করেন, কাতারও এই হামলার ব্যাপারে পূর্বে অবগত ছিল না।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মিত্র দেশগুলির মধ্যে আদৌ কি সমন্বয় রয়েছে? নাকি কৌশলগত বিষয়ে ফাটল তৈরি হচ্ছে?
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে এমন হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার আশ্বাসও পেয়েছেন। যদিও বাস্তবে হামলা ইতিমধ্যেই ঘটে যাওয়ায় সেই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।(US Israel)
ট্রাম্প একইসঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে অন্যায় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, ইরান যদি কাতার বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ দেশকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্র তার যোগ্য, কঠোর জবাব দেবে। যা ইরান আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। এমনকি প্রয়োজনে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ইরানি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক বিভ্রান্তিও সামনে এসেছে। একদিকে মিত্র দেশগুলির বক্তব্যে অসঙ্গতি, অন্যদিকে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।












