ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রি: প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

Published on: November 8, 2026
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
অবশেষে ব্যপারটা ঘটেই গেল। ২০২৬ সালের ১৪ই অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট কমিটি সন্মতি দিয়েই দিল ভারতীয় শিল্পের অগ্রগতির বহু যুদ্ধের সাক্ষী থাকা অর্ধ শতাব্দী অতিক্রান্ত আইডিবিআই ব্যাঙ্কের হস্তান্তরের। ভারতীয় ব্যাঙ্কটির মালিকানা চলে গেল ফেয়ারফেক্স নামক এক কোম্পানির হাতে। না এই ফেয়ারফেক্স কোনও ভারতীয় কোম্পানি নয়, এর মালিক কানাডার অধিবাসী। মাত্র ৫২৮৭৮ কোটি টাকা দিয়ে তাঁরা কিনে নিল ভারতীয় শিল্পায়নের পথিকৃৎ এক ব্যাঙ্ককে। (IDBI Bank Sale Controversy)

১৯৬৪ সালে কংগ্রেস সরকারের শিল্পায়নের প্রয়াসে তৈরি হওয়া এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, যা কিনা আজ আইডিবিআই ব্যাঙ্ক হিসাবে পরিচিত, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সহায়তায় মূলত বৃহৎ শিল্পের ঋণ দেওয়ার উপর কাজ করত। ভারতের স্বাধীনতা উত্তর সময়ে শিল্পায়নের প্রসারে এই ব্যাঙ্কের এক বড় ভূমিকা ছিল।

কিন্তু ১৯৯১ সালে ভারতীয় অর্থনীতিতে ব্যপক পরিবর্তনের সময় যে নরসিংহম কমিটি গঠন হয়েছিল তার সুপারিশে আইডিবিআইকে শিল্পের উন্নতিকল্পের ব্যাঙ্ক হিসাবে সরকার যে সুবিধাগুলো দিচ্ছিলেন তা তুলে নেওয়া হয়। তারপর ২০০৩ সালে আইডিবিআই নিয়ে যে বিশেষ আইন ছিল তার পরিবর্তন করা হয় এমনকি ২০০৩ সালে পার্লামেন্টে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিং কথা দেন যে, ভারত সরকার এই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৫১% বেশী শেয়ার নিজেদের কাছে রেখে ব্যাঙ্ককে সরকারের অধিকারেই রাখবে। ওই সময়েই আইডিবিআই ব্যাঙ্ক এক কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক হিসাবে পরিগনিত হতে থাকে। এমনকি সরকারি ব্যাঙ্ক হিসাবে ২০০৬ সালে এসে ভারতের এক বৃহৎ প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ইউনাইটেড ওয়েস্টার্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে এই ব্যাঙ্কে জুড়েও দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে আইডিবিআই লিমিটেড নাম পাল্টে রাখা হয় আইডিবিআই ব্যাঙ্ক। (IDBI Bank Sale Controversy)

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক হিসাবে তার ডালপালা ছড়ানোর পর দেখা যায়, যে অনেক বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর লোকেরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছে না। দেখা যাক এরা কারা। ভেনুগোপাল ধুতের ভিডিওকন, বিজয় মালিয়ার কিংফিশার এয়ারলাইন্স,অরবিন্দ ধামের আমটেক অটো, সি শিবশঙ্কারানের সিবা গ্রুপ, কাপিল আর ধিরাজ ভাদয়ার গ্রুপের দেওয়ান হাউজিং, এমনকি যতীন মেহাতার “বহু চর্চিত” উইনসাম ডায়মন্ডও আছে। অনাদায়ী ঋণ বা নন পারফর্মিং অ্যাসেটের (৩১.৭৮%) ভারে যখন আইডিবিআই ব্যাঙ্কের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে দাঁড়ায়, তখন ২০১৭ সালে ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার কর্ণধার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এই ব্যাঙ্কের উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পর ২০১৮ সালে এসে ভারত সরকার আর ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পাশে এসে দাঁড়ায় অর্থ সাহায্য নিয়ে। ২০১৯ সালে এলআইসি আইডিবিআই-এর ৫১% শেয়ারের মালিক হয়ে ওঠে, ২১৬২৪ কোটি টাকা লগ্নি করে ব্যাঙ্কটিতে। এর পর থেকেই এই ব্যাঙ্কে প্রাইভেট ব্যাঙ্ক হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়। আর তার ফলে এলআইসি এই ব্যাঙ্কের ১৮০০ বেশী শাখাকে জীবন বিমা নিগমের নানা পলিসি বিক্রি করার জায়গা হিসাবে ব্যবহার করতে থাকে। ধীরে ধীরে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ঘুরে দাঁড়াতে আরম্ভ করে এবং ২০২৫-২৬ সালের অর্থবর্ষে এসে তাদের নিট মুনাফা দাড়ায় ৯৫১৩ কোটি টাকায়।

প্রশ্ন হচ্ছে এই সময়ে এসে ভারত সরকার আর জীবনবিমা নিগম তাদের ৬০.৭৫% শেয়ার কেন বিদেশের একটা কোম্পানিকে বিক্রি করে দিল? শুধু তাই নয়, এই ফেয়ারফ্যাক্স যখন ভারতের আরেকটা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক সিএসবি ব্যাঙ্কের ৪০% শেয়ার কিনেছিল তখনও নানা কথা উঠেছিল।

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির প্রক্রিয়ায় জন্ম দিল হাজার প্রশ্নের

প্রথম কথা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আইন অনুসারে একই সংস্থা দুটো ব্যাঙ্কের কন্ট্রোল করার মতো শেয়ার রাখাতে পারে কি? কিন্তু আগেই যখন ফেয়ারফ্যাক্স ৪০% শেয়ার ধরে রেখেছে সিএসবি ব্যাঙ্কের, তাহলে তারা কীভাবে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২% শেয়ার নিজদের সিন্দুকে তুলতে পারে। তারপর দেখুন, আইডিবিআইয়ের শেয়ার ফেয়ারফ্যাক্সকে বিক্রি করা হলো ৮১ টাকায়। (IDBI Bank Sale Controversy)

সরকার বাহাদুর বুকফুলিয়ে বললেন, বাজার হিসাবে এই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম ধরা হয়েছিল ৭৫-৭৯ টাকা, আমরা তো বেশী দামই পেলাম। অথচ দেখুন বাজারের দাম আনুসারে যখন এই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম ঠিক করা হয়েছিল ৯৫ টাকা তাখন নাকি বাজারের দরে এই শেয়ার কেনার লোকই পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি যেদিন ফেয়ারফ্যাক্সকে এই শেয়ার বিক্রির চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয় সেদিনও বাজারে তার মূল্য ছিল ৯০ টাকার মতো।

এখানেও প্রশ্ন থেকে গেল এই ব্যাঙ্কের বিক্রির জন্য কেন এত তাড়াহুড়া করে শেয়ার প্রতি প্রায় দশ টাকা মতো ক্ষতি সইতে হলো? এই বিষয়ে “বিজনেস ওয়ার্ল্ড” পত্রিকা লিখল, ফেয়ারফ্যাক্স এর দরপত্র দেখার পর নাকি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম নির্ধারিত হয়। অন্য দিকে প্রশ্ন উঠেছে, ফেয়ারফ্যাক্সের একজন সিনিয়ার পরামর্শদাতা হিসাবে অমিতাভ কান্তের উপস্থিতি, যিনি এক সময় নীতি আয়োগের হয়ে নাকি এই সংস্থার বিলগ্নিকরনের স্বপক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। এমন কী একসময়ের ভারতীয় জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকা শ্রীসুভাষ চন্দ্র গর্গও প্রশ্ন তুলেছেন, এত কম দামে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রি করতে গিয়ে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তা নিয়ে। (IDBI Bank Sale Controversy)


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Sreeparna Sen

বাংলা সাহিত্যে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু হলেও নতুন বিষয় জানার আগ্রহ এবং লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা থেকেই ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার জগতে পা রাখা। কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত এবং ইতিমধ্যে একাধিক ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি । রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন লিখতে বিশেষ আগ্রহী। নতুন বিষয় শেখা, তথ্য অনুসন্ধান এবং পরিচিত বিষয়কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহের মূল ভিত্তি।

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now