ভারতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা নিয়ে চর্চা হয়। কিন্তু সেই দেশেরই এক মহিলা এমন একটি খেলাকে বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। ওজন নিয়ে কটাক্ষ, পরিবারের চাপ এবং সমাজের নানা বাধা পেরিয়ে জাপানিজ় খেলা সুমোতে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন হেতল ডেভ। তাঁর জীবনের সেই লড়াই নিয়েই তৈরি হয়েছে জীবনীভিত্তিক ক্রীড়া ছবি ‘সুমো দিদি’। ছবিতে হেতল ডেভের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীয়ম ভাগনানি। পরিচালক জয়ন্ত রোহতগির এই ছবি মুক্তি পেয়েছে জি৫ (ZEE5) ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। (Sumo Didi)
পরিচালনায় নতুন উদ্যোগ
এই ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয়েছে জয়ন্ত রোহতগির। কঠিন বিষয় বেছে নিয়েও গল্পকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। ছবির শুরু দর্শককে চমকে দেয়। প্রথমে মনে হতে পারে, যেন ছবির শেষ দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। কিন্তু গল্প এগোতেই সামনে আসে অন্য ছবি। পরিচালকের এই উপস্থাপনা ছবির অন্যতম আকর্ষণ। (Sumo Didi)
সঙ্গীত ও চিত্রগ্রহণ
ছবির ‘জুনুন হ্যায়’ এবং ‘জিদ্দি জান’ গান দু’টির সুর করেছেন অমর মাংরুলকর ও দীপ্তার্ক বসু। গানগুলি খুব একটা নজর কাড়ে না। তবে অমর মাংরুলকরের আবহসঙ্গীত প্রশংসা পেয়েছে। সুমো কুস্তির লড়াইয়ের দৃশ্য সাজিয়েছেন অ্যাকশন পরিচালক আর পি যাদব। সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন দেব রাও যাদব। চিত্রগ্রাহক আকাশ আগরওয়াল জাপানের সৌন্দর্য সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। (Sumo Didi) এর আগে ‘দঙ্গল’ এবং ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এর মতো ক্রীড়া ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে চিত্রনাট্য ও সংলাপে আরও জোর দেওয়া যেত বলে মনে হয়েছে।
অভিনয়ে নজর কাড়লেন শ্রীয়ম
হেতল ডেভের চরিত্রে শ্রীয়ম ভাগনানির অভিনয় ছবির প্রধান আকর্ষণ। শারীরিকভাবে কঠিন এই চরিত্রের জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয়ে চরিত্রটির জেদ, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। হেতলের বন্ধু ও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় চৈতন্য শর্মাও ভালো অভিনয় করেছেন। হেতলের বাবার চরিত্রে প্রয়াত অভিনেতা নীতেশ পাণ্ডে একজন সহায়ক বাবার ছবি তুলে ধরেছেন। মায়ের চরিত্রে অনুভা ফতেহপুরা মেয়ের বিয়ে ও ওজন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত এক অভিভাবকের ভূমিকায় নজর কেড়েছেন। সুমো প্রশিক্ষক তাওশির চরিত্রে কাজুমাসা সাতোও যথাযথ।(Sumo Didi)
কেন দেখবেন ‘সুমো দিদি’?
ওজন নিয়ে কটাক্ষ, বিয়ের চাপ এবং প্রশিক্ষণের পরিকাঠামোর অভাব—সব বাধা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন হেতল। তাঁর জীবনের এই কাহিনি স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি সমাজের প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্ন করে। ছবিটি দর্শককে হাসাবে, আবেগপ্রবণ করবে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। যাঁরা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান, তাঁদের জন্য ‘সুমো দিদি’ অবশ্যই দেখার মতো একটি ছবি। (Sumo Didi)











1 thought on “বিয়ের চাপ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, হেতল ডেভের লড়াইয়ের গল্প বলছে ‘সুমো দিদি’”
Comments are closed.