রবিবার থেকে অসমে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এদিন আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবারের সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, ৫.২৪ বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ASDMA) সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও ৫ জেলা সম্পূর্ণ প্লাবিত। চরাইদেও জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার জলে ডুবে নতুন করে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে (Assam Floods)।
Assam Floods: বন্যায় বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি
সূত্রের খবর, বন্যাকবলিত (Assam Floods) ৫টি জেলা। এই ৫ জেলার মধ্যে রয়েছে—চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং শিবসাগর। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত চরাইদেও, সেখানে প্রায় ১.৯ লক্ষ মানুষ বন্যাকবলিত। এরপরের স্থানেই রয়েছে শিবসাগর (১.৫ লক্ষের বেশি) এবং জোরহাট (প্রায় ১.৪ লক্ষ)।
সে রাজ্যের ৭৬৩টি গ্রাম এখনও জলের তলায়। বন্যায় প্রায় ৪৮,৭৪২ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাস্তা, সেতু ও বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি বলেন, “অসম ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি জানান, বন্যার সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পর, বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকেরা শিবসাগর, জোরহাট, চরাইদেও, ধুবড়ি, বনগাইগাঁও এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই জরুরি পরিষেবাগুলিকে পুনরুদ্ধার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,”
দুর্গতদের জন্য ৪টি জেলায় ৩৫৪টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র খুলেছে অসম সরকার। সেখানে ৩৭,৭২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও জারি রেখেছে প্রশাসন। এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), সেনা ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদীর জলস্তর।








