এ যেন নিঃশব্দ বিপ্লব। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত—আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় সব দেশই ড্রোন যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া। ঠিক সেই সময়েই নিঃশব্দে নিজের প্রস্তুতি জোরদার করছে ভারত। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী ড্রোন ‘শেষনাগ ১৫০’, যা আগামিদিনে ভারতের আকাশসীমা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। (Sheshnag 150)
সূত্রের খবর, ঘাতক ক্ষমতাসম্পন্ন এই ড্রোন নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। দেশের অস্ত্রভান্ডারে এটি এক নতুন সংযোজন হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ। আত্মঘাতী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই ড্রোনের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে, যদিও চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনও বাকি। (Sheshnag 150)
বেঙ্গালুরুর প্রতিরক্ষা সংস্থা নিউস্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস এই ড্রোন নির্মাণ করেছে। ‘শেষনাগ ১৫০’-এর বড় বৈশিষ্ট্য হল তার সহনশীলতা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর ব্যবস্থা। এটি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এবং এতে রয়েছে উন্নত ক্যামেরা ও রাডার প্রযুক্তি। প্রয়োজনে এতে ঘাতক অস্ত্রও সংযোজিত করা যেতে পারে। ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার নজর এড়াতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ‘লো সিগনেচার’ প্রযুক্তি। (Sheshnag 150)
সীমান্তে টহলদারি থেকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে এই ড্রোন। জিপিএস ব্যবস্থার সাহায্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি। ঝাঁকে ঝাঁকে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত দক্ষ। একযোগে আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। টানা পাঁচ ঘণ্টা আকাশে উড়ে নির্দিষ্ট এলাকায় চক্কর কাটতে পারে এবং প্রয়োজনে হামলা চালাতে পারে। (Sheshnag 150)
এই ড্রোনের নামকরণও তাৎপর্যপূর্ণ। পৌরাণিক শক্তিশালী সর্প ‘শেষনাগ’-এর নাম অনুসারেই এর নাম রাখা হয়েছে। পুরাণে ‘শেষনাগ’ শক্তি ও ক্ষিপ্রতার প্রতীক। সেই ভাবনাকেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছে এই নাম। (Sheshnag 150)
ভারতের প্রতিরক্ষায় আগামিদিনে ড্রোন প্রযুক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ‘শেষনাগ ১৫০’ সেই চাহিদা পূরণের প্রথম ধাপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। (Sheshnag 150)











