পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনেকদিন ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই অবস্থায় ৬০ দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে এবার সরব ভারত। যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে না জড়ালেও একমাত্র আমাদেরই নাবিক হারিয়েছে বলে দাবি ভারতের। একই সঙ্গে ভারত দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার এবং পরিবহন পথে নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার দাবি তুলেছে।
সম্প্রতি ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে ৬০ টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। সেখানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তিনি বলেন, ‘চলমান সংঘাত কমাতে কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ’। পাশাপাশি তিনি ভারতের জ্বালানি বাজারের উপর এই যুদ্ধ সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। (Strait of Hormuz)
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ভারতই একমাত্র দেশ, যারা একাধিক নাবিক হারিয়েছে। এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে থাকা অন্তত ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। ভারত আরও জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ভারতসহ অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব পড়বে, তাই সংঘাত কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেই এগোনোর দাবি জানিয়েছে ভারত।
দুর্দান্ত ইনিংসের পরেও শাস্তি, বড় শাস্তির মুখে Abhishek Sharma
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বাস করেন। ভারত সরকার জানিয়েছে, তাঁরা নিরাপদে আছেন এবং দূতাবাসগুলির মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে মোট ৮ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ জন এখনও নিখোঁজ। এছাড়া ইরান থেকে ২০৪ জন ভারতীয়কে স্থলপথে আজারবাইজানের সীমান্ত দিয়ে বের করে আনা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এই সহায়তার জন্য আজারবাইজান সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারত। (Strait of Hormuz)
সব মিলিয়ে, হরমুজ সংকট ঘিরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে ভারত দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসতে চাইছে এবং হরমুজে যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপরই জোর দিচ্ছে।












