তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাজ্য জুড়ে ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে উৎসবের আবহ, ঠিক সেই সময় একেবারে উল্টো ছবি দেখা গেল তিরুনেলভেলি জেলার নাঙ্গুনেরি বিধানসভা কেন্দ্রের পেরুমপাথু গ্রামে। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও ওই গ্রামের একটি বুথে একটি ভোটও পড়েনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি এমন বিরল প্রতিবাদ ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। (Tamil Nadu Election 2026)
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পেরুমপাথু গ্রামে মোট ৯৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। ভোটগ্রহণের জন্য ইভিএম থেকে নিরাপত্তা বাহিনী যেখানে সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন ছিল। কিন্তু বুথ কার্যত ফাঁকাই পড়ে থাকে। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। (Tamil Nadu Election 2026)
এই ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে গত ২ মার্চের ভয়াবহ জাতিগত হিংসার ঘটনা। অভিযোগ, সেদিন সাতজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী গ্রামে ঢুকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সেই হামলায় মৃত্যু হয় দুই জনের ও একজন প্রতিবন্ধী দলিত ব্যক্তি এবং ওডিশার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। আহত হন আরও ছয়জন। আহতদের মধ্যে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষও ছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, দলিত যুবকদের আতঙ্কিত করতেই প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর সদস্যরা এই হামলার ছক কষেছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল। এখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ঘটনার পর প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কোনও আধিকারিক গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেননি। সেই ক্ষোভ থেকেই ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত বলে দাবি গ্রামবাসীদের। (Tamil Nadu Election 2026)
এই ঘটনা ফের বুঝিয়ে দিল, শুধু ভোট করালেই গণতন্ত্র সফল হয় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ক্ষোভ যখন ভোটবাক্সের বদলে নীরব বুথে প্রকাশ পায়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বার্তা।











