রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

পুজোয় দিনরাত ফাস্টফুড খাবার প্ল্যান? এই ৫ অভ্যাসে বাড়তে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা

Published on: September 25, 2026
Health Tips
---Advertisement---

আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন। তারপরই বাঙালিদের প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজো। আর দুর্গাপুজো মানেই তো প্যান্ডেল হপিং, রাত জেগে ঠাকুর দেখা আর পছন্দের খাবার খাওয়ার ধুম। আর কলকাতার পুজোয় বিরিয়ানি, মিষ্টি, ফুচকা, তেলেভাজা তো মাস্ট। কিন্তু উৎসবের আনন্দে খাওয়াদাওয়া আর দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য অনিয়ম হলেই দেখা দিতে পারে হজমের সমস্যা। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের পুজোর সময় একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে হঠাৎ করে বেশি তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত জল না পান করা এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। তাহলে কী করবেন?

চিকিৎসক আজহার আলম,আরজি হাসপাতাল, কলকাতার কলোরেক্টাল সার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ইনস্টিটিউট অব কোলোরেক্টাল সায়েন্সেসের প্রধানের মতে, যাঁদের আগে থেকেই পাইলস রয়েছে, তাঁদের উৎসবের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। কয়েক দিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।

Health Tips: তাহলে পুজোর সময় কোন ৫টি অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন?

১. অতিরিক্ত বিরিয়ানি ও কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া

পুজোর সময় বিরিয়ানি খাওয়া হবে না, তা কি হয়? তবে একটানা বেশি পরিমাণে বিরিয়ানি, মাংস ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ কমে যেতে পারে। কারণ এই ধরনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যের পরিমাণ সাধারণত কম থাকে।

ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে এবং মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দিতে হলে পাইলসের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই বিরিয়ানি খেলেও সঙ্গে স্যালাড বা সবজি রাখুন। প্রতিদিনের খাবারে ফল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করুন।

২. পুজোর মিষ্টি খেতে গিয়ে বাড়াবাড়ি নয়

দুর্গাপুজোয় রসগোল্লা, সন্দেশ, লাড্ডু কিংবা অন্যান্য মিষ্টি খাওয়ার আনন্দই আলাদা। কিন্তু অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার খেতে গিয়ে অনেক সময় ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া কমে যায়।

তাই মিষ্টি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণের দিকে নজর রাখুন। মিষ্টি খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য খেলে খাদ্যে আঁশের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য মিলতে পারে।

৩. সারাদিন তেলেভাজা ও ফ্রাই খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন

প্যান্ডেল ঘুরতে ঘুরতে সিঙাড়া, চপ, ফ্রাই কিংবা অন্যান্য তেলেভাজা খাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু সারাদিন বারবার বেশি তেলযুক্ত খাবার খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে খাবারে আঁশ কম থাকলে এবং পর্যাপ্ত জল না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই পুজোর সময় তেলেভাজা খেলেও পরিমাণে সংযম রাখুন। খাবারের তালিকায় ফল, সবজি ও পর্যাপ্ত তরল রাখার দিকে নজর দিন।

৪. প্যান্ডেল ঘুরতে গিয়ে জল খেতে ভুলবেন না

পুজোর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যান্ডেল ঘোরা, লাইনে দাঁড়ানো এবং হাঁটাহাঁটি করার ফলে শরীরে জলের চাহিদা বেড়ে যায়। তার উপর ঘাম হলে শরীর থেকে আরও তরল বেরিয়ে যায়।

শরীরে জলের ঘাটতি হলে কোলন মল থেকে বেশি জল শোষণ করে নিতে পারে। ফলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং মলত্যাগ করতে অসুবিধা হয়। তাই প্যান্ডেল ঘুরতে বেরোনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখুন। সারাদিন অল্প অল্প করে নিয়মিত জল পান করুন। তবে কোনও চিকিৎসক যদি জল খাওয়ার পরিমাণ সীমিত করে দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরামর্শ মেনে চলুন।

৫. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখবেন না

পুজোর ভিড়, দীর্ঘ লাইন কিংবা অপরিচিত পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের অসুবিধার কারণে অনেকেই মলত্যাগের বেগ পেলেও তা চেপে রাখেন। কিন্তু বারবার এই অভ্যাস করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মলত্যাগের বেগ উপেক্ষা করলে মল অন্ত্রে বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। ফলে মল থেকে আরও জল শোষিত হয়ে সেটি শক্ত হয়ে যায়। তখন মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়, যা পাইলসের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই বেগ এলে অকারণে মলত্যাগ পিছিয়ে দেবেন না। (Health Tips)

টানা বৃষ্টিতে ফের সিকিমে ধস, রিম্বিতে সিকিম ল্যান্ডস্লাইডে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাড়ি

পুজোর আনন্দ বজায় রাখতে মেনে চলুন কয়েকটি সহজ অভ্যাস

উৎসবের সময় খাবারদাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি ছোট অভ্যাসেই হজমের সমস্যা এড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।

  • বিরিয়ানি, মিষ্টি ও তেলেভাজা পরিমিত পরিমাণে খান।
  • খাবারের সঙ্গে শাকসবজি ও ফল রাখুন।
  • সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং সম্ভব হলে সঙ্গে জলের বোতল রাখুন।
  • নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন।
  • মলত্যাগের বেগ এলে তা চেপে রাখবেন না।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবারে পরিমাণ বাড়ান এবং পর্যাপ্ত তরল পান করুন।

তবে মলত্যাগের সময় বারবার রক্তপাত হলে, তীব্র ব্যথা থাকলে, অকারণে ওজন কমতে থাকলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে পাইলস ভেবে চিকিৎসা করবেন না। এমন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now