ভারতীয় ভোজন রসিকদের খাদ্য তালিকায় এমন অনেক খাবার রয়েছে, যেগুলি একসঙ্গে খেতে আমরা অভ্যস্ত। যেমন- ডাল-রুটি থেকে শুরু করে চা-পকোড়া—বছরের পর বছর ধরে এই খাবারগুলিই আমাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু জানেন কি, খাবারগুলি আলাদা করে খেলে যতটা উপকারী, সবসময় একসঙ্গে খেলেই যে তা শরীরের জন্য ভালো হবে, এমনটা কিন্তু নয়। ভুল কম্বিনেশন বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে অনেকের ক্ষেত্রে এই খাবারগুলিই গ্যাস, পেট ফাঁপা, অম্বল বা হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। (Health Tips)
তাই পছন্দের খাবার দিয়ে নিজের প্লেট সাজানোর আগে একবার দেখে নিন, কোন খাবারের সঙ্গে কী খাচ্ছেন।
১. ডাল-রুটি: বেশি ফাইবারে পেট ভার হতে পারে
ডাল এবং রুটি—দুটিই আমাদের প্রতিদিনের খাবারের পরিচিত অংশ। ডালে যেমন ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, তেমনই আটার রুটিতেও থাকে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু একসঙ্গে অনেকটা ডাল-রুটি খেলে কারও কারও হজমে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত জল বা সবজি না থাকলে গ্যাস, পেট ভারী লাগা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।
কী করবেন?
ডাল-রুটির সঙ্গে রান্না করা সবজি, হালকা সালাদ বা দইয়ের ঘোল রাখতে পারেন। এতে খাবারে ভারসাম্য আসে এবং হজমও তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
২. চা-পকোড়া: বৃষ্টির দিনে জমে যায়, কিন্তু পেটের জন্য ঠিক নয়
বৃষ্টি নামলেই এক কাপ গরম চা আর পকোড়া—এই জুটির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। কিন্তু এই জনপ্রিয় কম্বিনেশনটাই অনেকের অম্বল বা হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। চায়ে থাকা ট্যানিন শরীরে আয়রন শোষণের ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে। অন্যদিকে, ডুবো তেলে ভাজা পকোড়া পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াতে পারে।
কী করবেন?
চায়ের সঙ্গে নিয়মিত ভাজাভুজি না খাওয়াই ভালো। খেতেই হলে চা এবং ভাজা খাবারের মধ্যে অন্তত কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখুন। এতে অম্বলের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
৩. রাতে দই খাওয়ার অভ্যাস আছে? একটু ভেবে দেখুন
দইয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে। তাই অনেকেই দইকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে নিয়মিত খান। তবে রাতে দই খেলে সবার শরীরে একই রকম প্রতিক্রিয়া নাও হতে পারে। (Health Tips)
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রাতে দই খেলে পেট ভার, হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের দুগ্ধজাত খাবারে অস্বস্তি হয়, তাঁদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
কী করবেন?
দই খেতে চাইলে দুপুরের খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন। রাতে হালকা খাবার হিসেবে গরম স্যুপ বা পাতলা ডাল বেছে নিতে পারেন।
চিকেন না ডিম, কম ক্যালরিতে বেশি প্রোটিন কোনটিতে?
৪. পেট ভরা খাবারের পরেই ফল? অভ্যাস বদলানোই ভালো
খাবার শেষ করে মিষ্টির বদলে ফল খাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো অভ্যাস। কিন্তু ভারী খাবারের ঠিক পরেই ফল খেলে কিছু মানুষের পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
ফল তুলনামূলক দ্রুত হজম হয়। অন্যদিকে ভাত, ডাল বা অন্যান্য ভারী খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়। তাই একেবারে পেট ভর্তি খাবারের পর ফল খেলে আপনার খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে।
কী করবেন?
মূল খাবারের সঙ্গে সঙ্গে ফল না খেয়ে দিনের অন্য সময়ে ফল খেতে পারেন। যেমন, সকাল বা বিকেলে অথবা দুটি মিলের মাঝের সময়ে ফল খাওয়া যেতে পারে।
৫. রাজমা-ভাত বা ছোলে-ভাটুরে: স্বাদে দুর্দান্ত, কিন্তু হজমে চাপ
রাজমা-ভাত কিংবা ছোলে-ভাটুরে—দুটিই ভারতীয়দের কাছে জনপ্রিয় জুটি। কিন্তু এগুলি তুলনামূলক ভারী খাবার।
রাজমা ও ছোলায় প্রচুর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ফাইবার থাকে। অন্যদিকে ভাত বা ময়দার ভাটুরেতে থাকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট। ফলে পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে খাবার হজম হতে সময় লাগতে পারে। পেটে গ্যাস, ভারী লাগা বা অস্বস্তিও হতে পারে। (Health Tips)
কী করবেন?
পরিমাণের দিকে নজর রাখুন। সম্ভব হলে সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস বা মিলেটজাতীয় শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। ছোলে-ভাটুরে খেলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তাহলে কি এই খাবারগুলি একেবারেই খাবেন না?
একেবারেই তা নয়। ডাল, রুটি, দই, ফল, রাজমা কিংবা ছোলা প্রতিটিই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। আসল বিষয় হলো কতটা খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং আপনার শরীর কোন খাবারে কী প্রভাব পড়ছে। একই খাবার একজনের শরীরে সহজে হজম হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই খাবার নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার বদলে নিজের শরীর বুঝে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।











1 thought on “স্বাদে দুর্দান্ত হলেও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তো? অজান্তেই পেটের ক্ষতি করছে এই ৫ কম্বো”