পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। রাজ্যের প্রায় ৩৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে শুরু হয়েছে বিশেষ অডিট। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১০ শতাংশের হিসাব-নিকাশ এবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে সরকারি টাকা কোথায়, কী ভাবে খরচ হয়েছে, সেই হিসাবই মূলত পরীক্ষা করে দেখা হবে।
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই তথ্য জানান পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েতগুলিতে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী ক্যাগের রিপোর্টেও পঞ্চায়েতের আর্থিক অনিয়মের বিষয় সামনে এসেছে। সেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই এই বিশেষ অডিট শুরু করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, অডিটে যদি সরকারি টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাতের প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এতগুলি পঞ্চায়েতের নথি ও হিসাব খতিয়ে দেখার কাজ বড় পরিসরে হওয়ায় তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি জানান।
Panchayat Special Audit: আবাস যোজনাতেও অনিয়মের অভিযোগ
পঞ্চায়েতের পাশাপাশি আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়া নিয়েও বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। মন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ১২,৫০০ জন অযোগ্য ব্যক্তি আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক হাজার জন ইতিমধ্যেই পাওয়া টাকা ফেরত দিয়েছেন।
যাঁরা এখনও টাকা ফেরত দেননি, তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
ভোটের আগে দেওয়া টেন্ডার ও কাজও নজরে
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দেওয়া টেন্ডার এবং সেই অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরে এসেছে, কিছু এলাকায় ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই রাস্তা তৈরির মতো কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সমস্ত প্রকল্পের নথিপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অভয়ার প্রয়াণে ২ বছর, রাজ্যে পালন ‘অভয়া দিবস’, ফের তদন্তে গতি
কোনও প্রকল্পে দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।
রাজ্য সরকারের তরফে আগেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছিল। সেই নীতির অংশ হিসেবেই পঞ্চায়েতের আর্থিক কাজকর্মে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলও পাশ হয়েছে। (Panchayat Special Audit)
প্রশাসনের বক্তব্য, এই বিশেষ অডিটের মাধ্যমে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথাও আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করাই মূল লক্ষ্য। ৩৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের এই বিশেষ অডিটের ফল সামনে এলে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে আসতে পারে।










1 thought on “গত সরকারের আমলে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ, ৩৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ পদক্ষেপ”