[ছবি:এক্স]
হাইকোর্ট চত্বরে (Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে উঠেছিল ‘চোর’ স্লোগান। এবার হালিশহরের ভূতবাগানে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর-চোর’ ও ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানের পাশাপাশি কাদা, জল, জুতো এবং ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে রবিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও উপাসনা চৌধুরী। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ।
মমতা ব্যানার্জির উপর হামলা। তীব্র নিন্দা করছি। পুলিশ হেফাজতে নিহত কর্মীর বাড়ি যাচ্ছিলেন নেত্রী। তাঁকে বাধা, গাড়িতে ইঁট, পাথর। এটা কোন্ রাজত্ব? পুলিশ এসব দুষ্কৃতী জমায়েত হতে দিল কী করে?
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) August 9, 2026
Attack on @MamataOfficial pic.twitter.com/DHz3vTZFOh
কী ঘটেছিল হালিশহরে?
তোলাবাজি, হুমকি, আর্থিক প্রতারণা ও অস্ত্র আইনের মামলায় শুক্রবার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পরদিন থানার লকআপে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরজু। কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, অসুস্থ হয়েই তাঁর মৃত্যু। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি মারধরেই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
পরিবারের ক্ষোভ
মৃতের দাদা শম্ভু কেওটের বক্তব্য, পুলিশি মারধরেই মৃত্যু হয়েছে। গ্রেফতারের সময় পাশে কেউ আসেননি। তাঁর অভিযোগ, ব্যারাকপুর থেকে ভাইকে নিয়ে এসে মারা হয়েছে। (Mamata Banerjee) মমতা প্রসঙ্গে বলেন, “আগে পাশে ছিলেন না, এখন এসে কী লাভ?” তাঁদের বক্তব্য, এখন তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তেই আস্থা রাখতে চান। নিহতের স্ত্রীও তদন্তের মাধ্যমে বিচার চান।
অভয়ার প্রয়াণে ২ বছর, রাজ্যে পালন ‘অভয়া দিবস’, ফের তদন্তে গতি
Mamata Banerjee: পরিবারের সঙ্গে দেখা মমতার
Mamata Banerjee meets the family of Birju Keot. He died after spending a night in Halisahar police custody, his family has alleged custodial assault.
— Bengal Cartel 🔱 (@TheBengalCartel) August 9, 2026
BJP as usual tried to attack Mamata Banerjee's car, created ruckus but couldn't stop her from visiting the victim's family. pic.twitter.com/n40DRZMCyR
রবিবার বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ভূতবাগানে যান মমতা। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং উপাসনা চৌধুরী।
Mamata Banerjee: ‘বাংলা গুন্ডাদের হাতে’, মমতার তোপ
A commotion broke out in Halishahar, in West Bengal's North 24 Parganas district, where former CM Mamata's car was surrounded; mud, shoes, and slippers were hurled at the vehicle, and chants of "Queen of Robbers" were raised.
— Shruti Dhore (@ShrutiDhore) August 9, 2026
Mamata Banerjee spoke to the media. pic.twitter.com/XcqnKSi0Xc
বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করে মমতার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়িতে হামলা হয়েছে। বিজেপির লোকজন ইট-পাথর ছুড়েছে, কাদা ছুড়েছে এবং তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখানে বিজেপির সন্ত্রাস চলছে। বিজেপি বিধায়ক হুমকি দিয়েছেন।” মমতার কথায়, “বাংলা লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপিকে ‘প্রোটেকশন’ দিচ্ছে এবং বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস পরিবারকে ভয় দেখিয়েছেন। তিনি মামলা করার কথাও জানান।
কল্যাণ-দোলার নিশানায় প্রশাসন
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হালিশহরে (Mamata Banerjee) মমতাকে মারার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিরজুর ঘটনাকে ‘কাস্টডিয়াল ডেথ’ বলে উল্লেখ করে সঠিক বিচার দাবি করেন তিনি এবং সঙ্গে DG ও CP-র ইস্তফা চান। দোলা সেনের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।
গত সরকারের আমলে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ, ৩৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ পদক্ষেপ
‘চোরকে চোর বলব না কেন?’
Former chief Minister Mamata Banerjee faced Chor slogan while she reached at Halishahar to the deceased TMC worker's residence who died in Police Lock up . pic.twitter.com/iW9dHUtt9C
— Syeda Shabana (@JournoShabana) August 9, 2026
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিরজুর মৃত্যুর জন্য তাঁরা সমব্যথী। কিন্তু তাঁদের প্রশ্ন, তদন্ত যখন চলছে, তখন (Mamata Banerjee) মমতাকে এলাকায় আসতে হলো কেন? তাঁদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে চুরি, ডাকাতি ও খুন হয়েছে এবং শান্ত বীজপুরকে অশান্ত করতেই মমতা এসেছেন। “চোরকে চোর বলব না কেন?”—স্লোগান তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘বিশেষ কিছু বলব না। এটা তাঁর কর্মফল। অগণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিবাদ দেখিয়ে তাঁকে প্রাসঙ্গিক করার কোনও মানে নেই। তিনি এখন বাংলার মানুষের দ্বারা পরিত্যক্ত। এটাও হতে পারে তাঁর ভিতরের লোকেরাই পরিকল্পনা করে এ সব করতে পারেন।’
বিধায়ক পুলিশ সুপারের সামনে হেলমেট বিহীন বাইক চালক, পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের শেষ দিনে অন্য ছবি গড়িয়ায়










