ওটস মানেই সুস্থ খাবার এই ধারণা বহুদিনের। ওটসকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘হেলদি ব্রেকফাস্ট’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের একাংশ সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই খাবার সবার জন্য সমান উপকারী নয়। তাঁদের মতে, ওটসের গুণাগুণ থাকলেও কিছু লুকোনো ঝুঁকিও রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওটসে বিটা-গ্লুকান নামক দ্রবণীয় ফাইবার থাকায় এটি কোলেস্টেরল ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে একইসঙ্গে এটি সব শরীরে একইভাবে কাজ করে না। (Healthy Breakfast Oats)
চিকিৎসকদের দাবি, বাজারে যে ইনস্ট্যান্ট বা ফ্লেভার্ড ওটস পাওয়া যায়, সেগুলিতে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও কৃত্রিম উপাদান মেশানো থাকে। নিয়মিত এগুলি খেলে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেকেই এই প্যাকেটজাত ওটসকে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। (Healthy Breakfast Oats)
এছাড়া, যাঁদের ‘গ্লুটেন সেনসিটিভিটি’ বা সিলিয়াক ডিজিজ রয়েছে, তাঁদের জন্যও ওটস সবসময় নিরাপদ নয়। যদিও ওটস স্বাভাবিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত, তবে প্রক্রিয়াকরণের সময় গমের সংস্পর্শে এসে তা দূষিত হতে পারে। ফলে এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অন্যদিকে, বেশি ফাইবার থাকার কারণে হঠাৎ বেশি পরিমাণে ওটস খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, এমনকি পেটব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। (Healthy Breakfast Oats)
পুষ্টিবিদদের মতে, শুধুমাত্র ওটস খেয়ে সকালের খাবার সারলে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অন্যান্য ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। তাই ওটসের সঙ্গে ফল, দুধ, ডিম বা বাদাম যুক্ত করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একজন বিশেষজ্ঞের কথায়, “ওটস নিঃসন্দেহে ভালো, কিন্তু সঠিক পরিমাণ ও সঠিক ধরনের ওটস বেছে নেওয়া জরুরি। অতি প্রক্রিয়াজাত ওটস এড়িয়ে চলাই ভালো।” সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ওটসকে গ্রহণ করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন বলেই মত চিকিৎসকদের।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তি: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাজেশন। আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও জানুন : Cervical Cancer: ২০৪৮ এর মধ্যে সার্ভিকাল ক্যানসার নির্মূলের আশা, এখানও পার্থক্য গড়ছে ধনী-গরিব












