চাপের মুহূর্তে হাত কাঁপেনি। বরং শেষ তিরেই ইতিহাস লিখলেন (Kumkum Mohod) কুমকুম মোহদ। দক্ষিণ কোরিয়ার ও ইয়েজিনকে শুট-আউটে ১০-৮ হারিয়ে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা জিতলেন ভারতের এই তরুণ তিরন্দাজ। শুধু সোনাই নয়, এই জয়ের সঙ্গে এল লস অ্যাঞ্জেলস ২০২৮ অলিম্পিক্সের কোটাও।
Table of Contents
৫-৫ থেকে শুট-আউটে বাজিমাত
ফাইনালে নির্ধারিত পাঁচ সেটের পর দু’জনের স্কোর ছিল ৫-৫। এরপর শুট-আউটে কুমকুমের তির গিয়ে লাগে নিখুঁত ১০-এ। ও ইয়েজিন থামেন ৮-এ। আর তাতেই সোনা নিশ্চিত করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত রিকার্ভে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় মহিলা হলেন (Kumkum Mohod) কুমকুম।
সেমিফাইনালেই অলিম্পিক্স কোটা নিশ্চিত
সেমিফাইনালে চিনের জিংই ঝুকে ৬-২ হারিয়েই ভারতের জন্য ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্সের কোটা নিশ্চিত করেছিলেন ১৭ বছর বয়সী কুমকুম। এই ইভেন্টে দু’টি কোটা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী কোটা কুমকুমের ব্যক্তিগত নয়, ভারতের।
ঝুর বিরুদ্ধে প্রথম সেট ৯, ১০, ৯ মেরে জেতেন কুমকুম। দ্বিতীয় সেটে দু’জনেই তিনটি করে ১০ মারেন। তৃতীয় সেটও ড্র হয়। শেষ সেটে এক পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাং চে-ইয়ংকেও ৬-৪ হারিয়েছিলেন।
৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে সোনা, চিনকে হারিয়ে ইতিহাস ভারতের মহিলা হকিতে
ঠাকুমার ৩,০০০ টাকা থেকে ইতিহাস
(Kumkum Mohod) কুমকুমের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই। ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে ঠাকুমা কুসুমের দেওয়া ৩,০০০ টাকা দিয়ে প্রথম কাঠের ধনুক কিনেছিলেন তিনি। পরে বাবার নিজের জমানো শেষ সম্বল দিয়ে কেনা হয় একটি পুরনো সেকেন্ড-হ্যান্ড ধনুক।
বাবার কথায়, কুমকুম সবসময় বলতেন, “ধনুক পুরনো না নতুন তাতে কিছু যায় আসে না, সাহসটাই আসল।”
এর আগে সতীর্থ অঙ্কিতা ভকত ও কীর্তি শর্মার সঙ্গে মহিলাদের দলগত রিকার্ভে সোনা এবং ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিক্সড পেয়ার্সে রুপো জিতেছেন (Kumkum Mohod) কুমকুম।
নীরজের ব্রোঞ্জ, হারালেন ধীরজকে
এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ব্যক্তিগত রিকার্ভেও এল ভারতীয় পদক। ব্রোঞ্জ পদকের প্লে-অফে স্বদেশীয় ধীরজ বোম্মাদেভারাকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভারতীয় তীরন্দাজ নীরজ চৌহান।
পাঁচ সেটে নীরজের স্কোর ছিল ২৯-২৬, ২৭-২৮, ২৮-২৯, ৩০-২৮ এবং ২৯-২৮। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত রিকার্ভে পদকজয়ী দ্বিতীয় ভারতীয় পুরুষ হিসেবে ইতিহাস গড়লেন নীরজ। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব ছিল তরুণদীপ রাইয়ের।
পারভিন-অঙ্কুশ ও সুজিতের দাপট; বক্সিং-রিং থেকে কুস্তির ম্যাট—এশিয়াডে ভারতের সোনার হ্যাটট্রিক











1 thought on “কুমকুমের ১০-এ কুপোকাত দক্ষিণ কোরিয়া; রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ও নীরজের ব্রোঞ্জ”
Comments are closed.